Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
অনেক হয়েছে আর না, ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে জর্ডান

অনেক হয়েছে আর না, ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে জর্ডান

ডেক্স রিপোর্ট // যুক্তরাষ্ট্রের মিনোপোলিসে সাবেক কৃষ্ণাঙ্গ বাস্কেটবল তারকা জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার প্রতিবাদ ক্রমশ খেলার মাঠে ছড়িয়ে পড়ছে। গেল রোববার বুন্দেসলিগা মঞ্চে নানা ধরনের প্রতিবাদ দেখা গেছে। গোলের পর এক হাঁটু গেঁড়ে বসে ক্ষোভ জানান মার্কাস থুর। আরেক গোলস্কোরার জ্যাডন স্যাঞ্চোর জার্সির নিচের শার্টে দেখা যায় ‘জাস্টিস ফর জর্জ ফ্লয়েড’ লেখা। 

সোমবার নিজেদের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড অ্যানফিল্ডে অভিনব প্রতিবাদ জানায় লিভারপুল। সামাজিক দূরত্ব মেনে সেন্টার সার্কেল ঘিরে হাঁটু গেঁড়ে বসেন দলটির ফুটবলাররা। প্রতিবাদী কণ্ঠে সোচ্চার হয়েছে বার্সেলোনাও।

এরই মধ্যে ফ্লয়েড মার্ডারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস ও কোকো গফ। ধিক্কার জানিয়েছেন দেশটির বাস্কেটবল মহাতারকা লেব্রন জেমস। এর ন্যায়বিচার চেয়েছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্রিটিশ ফর্মুলা ওয়ান তারকা লুইস হ্যামিল্টনও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। তাতে শামিল হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল।

এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় উত্তাল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-মিছিল করছেন কৃষ্ণাঙ্গরা। ক্রমশও তা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের যেন আরও উসকে দিলেন মার্কিন বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডান। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হেনেছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডি টুইটারে জর্ডান লিখেছেন, নারকীয় এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত, যন্ত্রণাক্লিষ্ট ও ভীষণ ক্ষুব্ধ। আমি সব দেখছি। সবার যন্ত্রণা, রাগ ও হতাশা বুঝতে পারছি। বর্ণবাদ ও হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের পাশে আছি। অনেক হয়েছে, আর নয়।

তবে সবাইকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে বলেছেন জর্ডান। তিনি বলেন, আমাদের সঠিক পথে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সম্মিলিত আওয়াজে নেতাদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে। যেন আইন বদলানো হয়। প্রয়োজনে পদ্ধতি পাল্টাতে আমাদের নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবার সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

গেল ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ শহর মিনোপোলিসে সিগারেট কিনতে যান ফ্লয়েড। তার কাছে জালটাকা আছে সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ৪৬ বছর বয়সী আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত এ খেলোয়াড়ের গলা হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক ছভিন। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এর পর প্রতিবাদে ফেটে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের কতিপয় শহরের কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দা। ইতিমধ্যে কয়েক ডজন দোকানপাট পুড়িয়ে ফেলেছেন তারা। একই সঙ্গে মালামাল লুট করেছেন। সেই জেরে গেল শুক্রবার ছভিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি মার্ডার এবং সেকেন্ড-ডিগ্রি মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবু থামানো যাচ্ছে না বিক্ষোভকারীদের।

উল্লেখ্য, সহিংস মিছিল/ র‌্যালি দমনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *