Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বরিশালে করোনাকালে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব‌্যবসার মাধ্যমে দূর করছেন অভাব

বরিশালে করোনাকালে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব‌্যবসার মাধ্যমে দূর করছেন অভাব

নি‍উজ ডেক্স // দে‌শের বিভিন্নস্থানের সাথে বরিশালেও পাল্লা দিয়ে কোভিড-১৯ ক‌রোনা সংক্রমণ দিন দিনই বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে মৃত্যুর সাড়ি বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা, ভীতিও তীব্র হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের তিন মাস পার হলেও এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান দীর্ঘ হচ্ছে।

কবে নাগাদ এই করোনার হাত থেকে রেহাই মিলবে- সেই ভবিষ্যতও অজানা। এ অবস্থায় টানা লকডাউন আর বন্দি দশায় দি‌শেহারা হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে বরিশালের ফুটপা‌তের দোকানিরা। পেটের দায় আর বাসা বাড়ি সংসারের ভোডন-পোষনের বোঝার ভাড়ে কাহিল হয়ে পড়েছে তারা। তাই অনেকেই এখন আগের পেশা পাল্টে বিকল্প পেশায় ঝুকছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বতমান সময়ের আতঙ্কিত প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রির ব্যবসায় ঝুকছে।

আজ বুধবার (১০ই জুন) বরিশাল নগরীর গ্রিজ্জামহল্লা,সদররোড,বিবির পুকুরপাড়,চকবাজার সহ বিভিন্ন এলাকা ঘু‌রে দেখা গে‌ছে, রাস্তার পাশে সব জায়গায় এখন অস্থায়ী দোকান বসিয়ে, মাস্ক, গ্লাবস, সেনিটাইজার, সেভলন, ডেটল, চসমা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছে ফুটপাত সহ বিভিন্ন রেডিমেড পোষাক গার্মেন্টর্স দোকানিরা। অথচ দেখা গেছে এরাই দু-চার মাস আগে অন্য ব্যবসা করতো। কিন্তু এখন অন্যান্য দোকানপাট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা থাকায় তারা এখন এই বিকল্প ব্যবসায় নেমেছে বেছে থাকার জন্য একটু চেষ্টা।

বরিশালের ফুটপা‌তের দোকানিরা ব‌লেন, ‘আমরাওতো মানুষ আমা‌দেরও বাঁচার অধিকার আছে। ক‌রোনার কার‌ণে ফুটপা‌তে আগে যে ব‌্যবসা কর‌তাম সেটা এখন চ‌লে না। কিন্তু আমা‌দেরও তো এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে বাচতে বাঁচ‌তে হ‌বে। তাই বাধ‌্য হ‌য়ে এখন সময়ের প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি শুরু ক‌রে‌ছি। এগু‌লো বি‌ক্রি ক‌রে কোনোরকম খে‌তে তো পার‌ছি!’

বরিশালের ব্যাস্থতম সড়ক গ্রিজ্জামহল্লা বেশ কয়েকটি মার্কেটের সামনে কয়েকমাস আগেও তারা বিভিন্ন রেডিমেড প্যান্ট, সার্ট সহ বিভিন্ন পোষাক বিক্রি করেছে। অন্যদিকে গ্রিজ্জামহল্লা সড়কের এক সময়ে বড় রেডিমেড পোষাকের দোকান দোয়েলের সেলর্সম্যান দুলাল পরবর্তী সময়ে ঘড়োয়া হোটেলের সুপারভাইজর কাজ শুরু করেন জাহিদুল ইসলাম দুলাল এখন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি ক‌রেন।

তিনি বলেন, ‘এখন তো আগের ব্যবসা চলে না। করোনা ভাইরাস আসার পর হোটেলে আগের মত বিক্রি নাই। তাই বসে থাকা আর সংসারের জন্য অন্য কিছু তো করতে হবে, বরিশাল শহরে একটা পরিবার নিয়ে চলতে গেলে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় তা তো বুঝেনই মামা। তাই আগের ব্যবসা পরিবর্তন করে আপাতত স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করছি। আগের ব্যবসার তুলনায় এই ব্যবসায় কষ্ট একটু কম, যদি ভাল বিক্রি হয় তাহলে লাভটাও একটু বেশি। প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ আছে সেখানে এই ব্যবসার মাধ্যমে একটু ক্ষতি পুষিয়ে সংসারটাকে ধরে রেখেছি।

তিনি আরও জানান, লডাউনের সময় বেচাবিক্রি কম ছিল। এখন লকডাউন তুলে নেওয়ার পর এখন বেচাবিক্রি আগের চেয়ে ভালোই হচ্ছে মোটকথা পরিবার নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে কোনরকম তার জীবন চলে যাচ্ছে।

মুনির হোসেন খন্দকার পেশায় ভেনার্স মার্কেটে রেডিমেড পোষাকের দোকান রয়েছে সেখানে এখন ব্যবসা খারাপ। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস জীবনের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দিয়েছে। জীবন চালাতে তাই বাধ্য হয়ে এখন এগুলো বিক্রি করছি। পেট তো বাঁচাতে হবে, পরিবারের মুখে তো খাদ্য তুলে দিতে হবে। তবে আগের পেশার তুলনায় বর্তমানে যেটা করছি সেটাও খারাপ না,

একটু কষ্ট করলে লাভ ভালই পাওয়া যায়। যত বেশি বিক্রি ততবেশি লাভ। এসময় বলেন তারা প্রতিদিন তিন থেকে ছয় হাজার টাকার সামগ্রী করেন। সংসারে প্রতিমাসে পনেরো হাজার টাকা খরচ আছে সে টাকা এখন এই ব্যবসার মাধ্যমে পুষিয়ে নিচ্ছি। ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে অবশ্যই আগের ব্যবসায় ফিরে যাবো।’

এসময় গ্রিজ্জামহল্লা সড়কের অন্যসকল ব্যাবসায়ীরা বলেন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি শুরু করেছি, লাভ মোটামুটি খারাপ না। কষ্টটা একটু বেশি- এই আর কি। মার্কেট ঘুরে ঘুরে মাল সংগ্রহ করি, তারপর বিক্রি করি। বিক্রি ভালই হয়, কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে এখন এই জিনিসগুলোর চাহিদা বেশি। আল্লাহর রহমতে এখন পরিবার নিয়ে খেয়েপড়ে মোটামুটি ভালই যাচ্ছে দিন।’

চা-সিগারেট বিক্রেতা কালাম বলেন, ‘লাভ ভাল হয়, এই ধারণা থেকে আগের ব্যবসা বন্ধ করে এখন এসব স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করছি। আগে সারাদিন চা-সিগারেট বিক্রি করে যে লাভ হতো এখন এই ব্যবসা করায় তার লাভ ডাবল হয়।’ দিনে কি রকম লাভ হয় জান‌তে চাই‌লে তিনি বলেন, ‘সারাদিনে ৪-৫ হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হলে মোটামুটি ভালই লাভ থাকে। কোনদিন ৫ হাজার কোনদিন ৭ হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হয়। যেদিন বেশি বিক্রি হয় সেদিন ৭/৮ হাজারও ছাড়িয়ে যায়।’

কালাম আরও বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে মানুষ কখনো কার্পণ্য করে না। তাই এই করোনা ভাইরাসের সময়ে মানুষ সুরক্ষিত থাকতে এসব পণ্য কিনে নিচ্ছে। এজন্য চাহিদাও এখন বাড়তি। কারণ বেঁচে থাকতে হলে মানুষকে এগুলো ব্যবহার করতেই হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *