Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
চরকাউয়ায় রহস্যে ঘেরা বৃদ্ধ’র মৃত্যু: প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি!

চরকাউয়ায় রহস্যে ঘেরা বৃদ্ধ’র মৃত্যু: প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি!

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানি গ্রামের মোঃ হাশেম হাওলাদার (৬৩) নামে এক বৃদ্ধ’র আত্মহত্যা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। ময়নাতদন্ত শেষে বৃদ্ধ’র জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হতে না হতেই স্থানীয়দের মাঝে মৃত্যুর রহস্য আরও প্রখর আকার ধারন করে। যদিও মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিলো। ওই বৃদ্ধ’কে হত্যা করা হয়েছে বলে বরিশাল ক্রাইম নিউজের কাছে অভিযোগ করে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিবর্গ । মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে সংশ্লিষ্ট বন্দর থানা পুলিশ ওই দিনই অর্থাৎ ( ঘটনার দিন শনিবার ১১ জুলাই) মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। ময়নাতদন্ত শেষে বৃদ্ধ’র মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে আজ রবিবার নয়ানি গ্রামের চৌমাথা জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এসময় স্থানীয়রা ওই বৃদ্ধ’র মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানায় প্রশাসনসহ গনমাধ্যমকর্মীদের কাছে।

এসময় এলাকাবাসি উপস্থিত বরিশাল ক্রাইম নিউজের এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সম্পত্তির লোভেই মূলত মোঃ হাশেম হাওলাদারকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে হত্যার সাথে জড়িতরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে হাশেমের মরদেহ প্রশাসনসহ কেউই ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেতে পাননি। মৃত্যুর সংবাদ শুনে প্রশাসন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আসলে হাশেম হাওলাদারের মরদেহ তার স্ত্রী, ভাইয়ের ছেলে কামাল ও কামালের স্ত্রী নামিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রাথমিক ভাবে এ বিষয়টি নিয়েই স্থানীয়দের মাঝে রহস্যের সৃষ্টির সূত্রপাত। পরবর্তীতে তারা দেখতে পায় মৃত ওই বৃদ্ধ’র অণ্ডকোষ ফেটে রক্ত বের হয়। রক্ত বের হলেও পড়নের কাপড়ে রক্তের তেমন কোন আলামত দেখা যাচ্ছিলো না! পরনের কাপড়ে রক্তের আলামত দেখা না যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে মৃত্যু রহস্য আরও প্রকট হতে থাকে। মৃত বৃদ্ধ’র স্ত্রীই তার পরনের রক্তমাখা কাপড়টি সরিয়ে ফেলে বলে স্থানীয়দের দাবি!

এদিকে শনিবার সকালে হাশেম হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দর থানা পুলিশ। মৃত হাশেম হাওলাদার বরিশাল সরদ উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানি গ্রামের মৃত রজব আলী হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি নুরুল ইসলাম মৃধা  জানিয়েছেন, মোঃ হাশেম হাওলাদারের আত্মহত্যার খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনিসহ স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে স্থানীয় অনেকের ভাষ্য শুনে তিনিসহ স্থানীয় সকলের মনে রহস্য দানা বাধতে শুরু করে। তিনিসহ স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর কারন জানতে চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধ’র মৃত্যু নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি। এতে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের তীর আরও প্রখর হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ঠরা যেন বৃদ্ধ হাশেমের মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার করে।

ঘটনার বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপরেশন) সঞ্জয় দত্তের সাথে বিস্তর কথা হয় বরিশাল ক্রাইম নিউজের এ প্রতিবেদকের। এসময় বৃদ্ধ হাশেমের মৃত্যু নিয়ে কোন রহস্য রয়েছে কিনা এমন এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধ’র মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলেই আমরা মৃত্যু কারন স্পষ্ট হতে পারব। মুলত তিনি বলতে চেয়েছেন মৃত্যু নিয়ে যদি কোন রহস্য থেকে থাকে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হতে পারবো। তিনি আরও বলেন বৃদ্ধ’র মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বন্দর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অপমৃত্যুর মামলা হলেও ময়না তদন্তে হত্যার কোন আলামত পাওয়া গেলে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত করা হবে।

বৃদ্ধ হাশেমের ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ নামিয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে ওসি সঞ্জয় দত্ত বরিশাল ক্রাইম নিউজকে বলেন- পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ’র মহদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় বৃদ্ধ হাশেমের ঝুলন্ত মরদেহ তার স্ত্রী, মৃত হাশেমের ভাইয়ের ছেলে ও তার স্ত্রী নামায়। ওসি আরও বলেন মৃত্যু নিয়ে কোন রহস্য রয়েছে কিনা তা খুঁজতে পুলিশ প্রথমিক ভাবে তদন্তের কাজ শুরু করেছে। মৃত্যু নিয়ে কোন রহস্য উদঘাটন হলে তা মিডিয়ার কাছে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।””

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *