Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার মাও স্বাধীনতার একই স্বপ্ন দেখতেন : প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার মাও স্বাধীনতার একই স্বপ্ন দেখতেন : প্রধানমন্ত্রী

ডেক্স রিপোর্ট // প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন স্বপ্ন দেখতেন আমার মাও স্বাধীনতার সেই একই স্বপ্ন দেখতেন। এ দেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাক, ভালভাবে বাঁচুক এই প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় ছিলেন সজাগ এবং দূরদর্শী। আর তার পাশে সার্বক্ষণিক সাহস জুগিয়েছেন আমার মা। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা পারেনি কিন্তু বাংলাদেশের যে সেনাবাহিনী আমার বাবার হাতে গড়া, যারা আমার বাবার হাতে প্রমোশন পেয়েছেন। আমাদের বাড়িতে অবাধ যাতাযাত ছিল যাদের। তারই আমার মা-বাবাসহ পরিবারের সকলকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুনন্নেসা ইন্দিরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার কর্মময় জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম মতিয়া চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ প্রান্তে সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ১ হাজার ৩০০ সেলাই মেশিন, ১০০টি ল্যাপটপ ও ১৩ হাজার উপকারভোগীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আপেক্ষ করে বলেন, যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুর হাতে সৃষ্টি। পাকিস্তান আমলে বাঙালি সেনাবাহিনীরা কখনো ‘মেজর’র উপর কোনো প্রমোশন পেতো না। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু অনেককে মেজর জেনারেল করেছিলেন সেই মেজর জেনারেল জিয়া থেকে শুরু করে মেজর হুদা, নূর, কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদ প্রমোশন পেয়েছিলেন। কর্নেল ফারুকতো আমাদের বাড়িতে ডিউটি করতেন, সিকিউরিটি ছিল, তারাই আমার মা-বাবাকে হত্যা করলো।

তিনি বলেন, মেজর ডালিম, তার বউ ও শাশুড়ি প্রায়ই আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ২৩ জুলাই যখন আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে আমি ও রেহানা যখন জার্মানিতে যাবো, সেদিন জয়ের জন্মদিন। আমাদের বাড়িতে ঘটা করে কারো জন্মদিন পালন হতো না। ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করছি। সেদিনও মেজর ডালিম, তার স্ত্রী ও ডালিমের শাশুড়ি এসেছিলেন। এমন কোনো দিন নেই তারা আমাদের বাড়িতে না আসতেন। তাদের দাওয়াত করা লাগতো না। তারা এমনিতেই এসে হাজির হতেন। সেই বাবার হাতে গড়া সেনা সদস্যরাই মা-বাবার বুকে গুলি চালিয়েছে। আমার মা সেদিন বাঁচতে চাননি। সাহসিকতার সঙ্গে বলেছিলেন আমার স্বামী সেখানে আমি সেখানেই যাবো। এ কথা বলার পর সেখাইে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাবার উপযুক্ত সঙ্গী হয়েই তিনি চলে গেলেন। আব্বার আদর্শটা আমার মা মনে প্রাণে ধারণ করেছিলেন। সেটা ধারণ করেই তার জীবনটাকে তিনি উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দিন সংসারের কোনো ব্যাপারে তিনি আব্বাকে চিন্তা করতে না করতেন। সবসময় বলতেন সব আমি সামলাবো। ঠিক সেভাবেই তিনি তার সংসার পরিচালনা করে গেছেন। যার ফলে আব্বা সম্পূর্ণভাবে একটি দেশের জন্য কাজ করা সুযোগ পেয়েছেন। আমি মনে করি আমাদের দেশের মেয়েদেরও সেই আদর্শ নিয়ে চলা উচিৎ। ত্যাগের মধ্যে দিয়ে একটি সংসার, প্রতিষ্ঠান ও একটি দেশকে সুন্দর করা যায়। চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এর চেয়ে বড় কিছু আর হয় না। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেই দৃষ্টান্তই রেখে গেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। মুজিববর্ষ পালন করছি। বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলাম। এর মধ্যে করোনাভাইরাস এসে আমাদের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করলো। কিন্তু কিছু করার নেই কারণ সারা বিশ্বব্যাপী এই সমস্যা। যা হোক এখান থেকেও আমরা একদিন অবশ্যই উত্তরণ ঘটাবো। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ দেশ গড়বো। আমি মনে করি দেশ গঠনে আমার মায়ের ত্যাগ সেটাও বৃথা যাবে না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বিশেষ করে আত্মত্যাগী, লাঞ্ছিত মা-বোনদের সহযোগিতা করা, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ ব্যক্তিগতভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন এবং সামাজিকভাবে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সাধারণ বাঙালি নারীর মতো স্বামী-সংসার, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাংলাদেশের মহান সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সাফল্যেও বঙ্গমাতা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। জাতির পিতা রাজনৈতিক কারণে প্রায়শই কারাগারে বন্দী থাকতেন। এই দুঃসহ সময়ে তিনি হিমালয়ের মতো অবিচল থেকে একদিকে স্বামীর কারা মুক্তিসহ আওয়ামী লীগ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে সংসার, সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষাদান, বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা, শক্তি ও সাহস যুগিয়ে স্বাধীনতা এবং মুক্তির সংগ্রামকে সঠিক লক্ষ্যে নিয়ে যেতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।

৬-দফা ও ১১-দফার আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গৃহবন্দী থেকে এবং পাকিস্তানে কারাবন্দী স্বামীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গভীর অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা সত্ত্বেও তিনি সীমাহীন ধৈর্য, সাহস ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *