Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
ঋন প্রদানের নামে অভিনব কৌশলে সুদী কার্যক্রম, বিপাকে জনসাধারণ

ঋন প্রদানের নামে অভিনব কৌশলে সুদী কার্যক্রম, বিপাকে জনসাধারণ

অনলাইন ডেস্ক // বর্তমানে সমাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সুদী ব্যবসায়ীরা। সক্রিয় এ সকল সুদী ব্যবসায়ীদের অসাধু কার্যক্রমে সমাজের নিম্নবিত্ত, অসহায়দের ফাদে ফেলে নিয়মিত গলা কাটছে এ চক্রটি। স্ব- স্ব প্রতিস্ঠানের অফিসিয়ালি কার্যক্রমের নাম ব্যবহার করে ঋণ দেয়ার নামে সুদী ব্যবসায় জড়িয়ে সম্বল হারাতে বাধ্য করছে চক্রটি। এছাড়াও ঋণ দেয়ার শর্তে চক্রটি ব্লাংক চেক দেয়ার অবৈধ কৌশল ব্যবহার করছে। দিনের পর দিন এসকল চেকের মামলায় জেল খাটছে সাধারণ মানুষ, ব্যবস্থা নিতে নীরব ভূমিকায় লক্ষ্য করা যায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। বর্তমান সমাজে চেকের মামলা এক ধরনের জালিয়াতিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী ব্লাংক চেক নেওয়া অবৈধ কেউ লেনদেন করলে যে পরিমাণ টাকা লেনদেন করবে সে পরিমাণ টাকা চেকে উল্লেখ থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনকেও মানছেন না বাংলাদেশের এনজিও, সমবায় সমিতি, মাল্টিপারপাস ও সুদি ব্যবসায়ীরা। কেউ এদের কাছ থেকে ঋণ নিলে কিস্তির টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারলে তারা কৌশলে সদস্যের কাছ থেকে পাস বই চেক করার কথা বলে নিয়ে ব্লাংক চেকে মোটা অংকের টাকা প্রদর্শন করিয়ে ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার করিয়ে কোন লিগ্যাল নোটিশ না পাঠিয়ে-ই আদালতে চেকের মামলা দায়ের করে। তখন সদস্যের কাছে পাস বই ও থাকে না তখন সদস্য কোন উপায় না পেয়ে তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মামলা উত্তোলন করান। এমন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সুদী ব্যবসায়ীরা । চেকের মামলায় স্বাক্ষর ঠিক থাকলেই যে পরিমাণ টাকা চেকে উল্লেখ থাকবে সে পরিমাণ টাকা ভুক্তভোগীকে দিতে হবে, সে কারণে সাধারণ মানুষ সুদি ব্যাবসায়ীদের খপ্পড়ে পড়ে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর বিনা অপরাধে কারাভোগ করে যাচ্ছে। সরকার যদি চেকের মামলার আইন কে পরিবর্তন করে তাহলে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে এসকল হয়রানী, মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পাবেন বলে দাবী করেছেন সচেতন মহল। জানা যায়, বরিশালের সদর উপজেলাধীন কলাডেমা গ্রামের শোলনা সড়ক রেন্ডি তলা নামক এলাকায় বসবাসরত একাধিক বাসিন্দা নাসরিন বেগম, শিল্পী বেগম ও ফাতেমা বেগম প্রতিবেদককে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমরা এনজিও থেকে ব্লাংক চেক দিয়ে ঋণ নিয়েছি তখন আমাদেরকে বলা হয় ব্ল্যাংক চেক নেওয়া অবৈধ আপনি যে পরিমাণ টাকা ঋণ নিবেন সে পরিমাণ টাকা চেকে উল্লেখ থাকবে তারপর তারা বলেন যে এনজিও ব্ল্যাংক চেক ছাড়া ঋণ দিবে না। আমাদের টাকার প্রয়োজন বিধায় আমরা বাধ্য হয়েই ব্ল্যাংক চেক দিয়ে ঋণ নিয়েছি এখন তারা ব্লাংক চেকে মোটা অংকের টাকা বসিয়ে ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার করিয়ে কোন লিগ্যাল নোটিশ না পাঠিয়ে আদালতে এন, আই, এক্ট -এর১৩৮ ধারায় চেকের মামলা দিয়ে দেন। তারপর তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। এছাড়াও তারা টাকা দিলে মামলা তুলে নিব এমন আশ্বাস দিয়ে থাকে। এমন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সুদি ব্যবসায়ীরা।এ বিষয়ে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এর উপ-পরিচালক আব্দুল হকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন ব্লাংক চেক নেওয়া অবৈধ ও অন্যায়, যদি কোন প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাংক চেক নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে তাহলে তারা অন্যায় ও বেআইনি কাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *