Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
চাঁদার টাকায় সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

চাঁদার টাকায় সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

বার্তা পরিবেশক // রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের ভরসা একটিমাত্র সাঁকো। স্থানীয় লোকজন একটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসলেও দীর্ঘদিনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রামের বাসিন্দারা কয়েক বছর ধরে নিজেদের টাকায় ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সাঁকোটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের বোল্ডারের মাথা থেকে এক কিলোমিটার দূরেই তিস্তার শাখা নদীর ওপর সাঁকোটি। সাঁকোটির দুই পাশে দীর্ঘ সরু কাঁচা রাস্তা। সাঁকোটি দিয়ে তিস্তার তীরবর্তী ছাওলা ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার চর, গাবুড়া, হাগুরিয়া হাসিম, পূর্ব কাশিয়াবাড়ী, দক্ষিণ গাবুড়ার চর ও উলিপুর উপজেলার রামনিয়াস্বর গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। সাঁকোটি অপ্রশস্থ। ফলে পথচারীরা যাতায়াত করতে পারলেও রিকশা-ভ্যানসহ ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি চরের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি সাঁকোর নিচ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পার করতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পরও সেতু না পেয়ে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো এখন এই এলাকার মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিস্তা নদীর পাশে ওই এলাকায় বছরের পাঁচ-ছয় মাস পানি জমে থাকে। বর্ষাকালে তাদের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। বছরের অন্যসময়ে পানি থাকে না। তখন হেঁটে চলাচল করা যায়। কয়েক বছর ধরে বর্ষার শুরুতেই তারা নিজেরা চাঁদা তুলে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সরু সাঁকোটি নির্মাণ করে আসছেন। এবছর সাঁকোটি তৈরি করতে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে সাঁকো দিয়ে যাতায়াতকারীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। সাঁকো নির্মাণকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, ৮০ হাজার টাকা উত্তোলনের পর আর কাউকে চাঁদা দিতে হবে না।

সাঁকো পরিচালনা কমিটির ক্যাশিয়ার মোন্নাফ আলী বলেন, ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এখানে একটি ব্রিজ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। আমাদের চলাফেরা, স্থানীয় পাওটানার হাটে পণ্য আনা-নেওয়ায় অনেক কষ্ট হয়। অসুস্থ রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই আমরা এলাকাবাসী মিলে নিজেদের চাঁদার টাকায় বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছি।

হাগুড়িয়া হাশিম গ্রামের ফুল মিয়া মিস্ত্রী বলেন, ভোটের সময় সব নেতারাই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোটের পর তাদের আর পাওয়া যায় না, সেতুও আর নির্মাণ হয় না। গাবুড়া গ্রামের বাসিন্দা ছাইফুল ইসলাম বলেন, অপ্রশস্ত সাঁকো দিয়ে গ্রামে কোনো রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে পারে না। চরাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়ি। অথচ সেই ঘোড়ার গাড়ি স্রোতে ভাসিতে পার করতে হয়। এ কারণে উৎপাদিত পণ্যের পরিবহন আর রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *