Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
মহিপুরে শত্রুতার জেরে সাত পরিবারকে পানিবন্দি করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল

মহিপুরে শত্রুতার জেরে সাত পরিবারকে পানিবন্দি করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল

আব্দুল কাইয়ুম পটুয়াখালী // মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ানের ৯ নং ওয়ার্ডের খাপড়াভাঙ্গার মোঃ খানজাহান আলীর ছেলে মোঃ দুলাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাঁকো ফেলে সাতটি পরিবারকে পানিবন্দি করার অভিযোগ। এক কোড়ালিয়ার খালের ওপারে থাকা সাতটি পরিবারের এপারে উঠতে হয় সাঁকো দিয়ে ওপারে থাকা দুলালের সাথে ঝামেলা থাকায় সাঁকোটি ফেলে দেয় দুলাল এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে সাতটি পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাপড়াভাঙ্গা খালের ওপারে সাতটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলো। খালের ভিতরে সাঁকো তৈরি করে এবং এটা দিয়েই বিলে যাতায়াত করতো কৃষকরা। আরো দুটো বাঁধ থাকলে ও সেই বাঁধ দিয়ে চলাচল করতে দিচ্ছিলোনা বাঁধ মালিকরা। তাই নিরুপয় হয়ে এই একটি বাঁধ দিয়েই চলাচল করতে হতো সকল কৃষকের। বীজ কীটনাশক কৃষকের সকাল দুপুরের ভাত সহ কৃষি সামগ্রী আনা নেওয়া হতো এপার থেকে ওপার। এই সাঁকোটি ফেলে দেওয়ার কারনে এখন তাদের দুবেলাই পানিতে ভিজে যেতে হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার কারণে জ্বরসহ নিউমোনিয়া হওয়ায় ভয়ে আতঙ্কে থাকছেন ভুক্তভোগীরা।

খালের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারগুলো মিলে মিশে জীবন যাপন করছিঠতে হলে এই সাঁকোটাই একমাত্র ভরসা। এই সাঁকো ছারা সম্ভব নয়। আমাদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ওপারে দুলাল সহ কিছু লোক আমরা যেন রাস্তায় উঠতে না পাড়ি সেই জন্য আমাদের সাঁকো ফেলে দিয়ে আমাদের অহেতুক হয়রানী করছেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এখানে সাতটি পরিবারের মোট সাতটি সন্তান স্কুলে এবং মক্তবে পড়াশুনো করেন। মাঝে মাঝে এই সাঁকো ফেলে দিয়ে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া নস্ট করছেন তারা। এছাড়াও আমাদের এখানে কোন টিউবয়েল না থাকায় ওপারে যেতে হয় পানি আনার জন্য। সাঁকো ফেলে দিলে হয়ত ভিজে না হয় পানি না খেয়ে থাকতে হয় আমাদের।

আরেক ভুক্তভোগী (মৃত) জালালের স্ত্রী মোসাম্মৎ ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই, দীর্ঘ ছয় বছর আগে আমার স্বামী মারা যায়। আমি এপারেই দুটি সন্তান নিয়ে বসবাস করি। একটি ছেলে, একটি মেয়ে। বড় ছেলে চাপলি রেস্টুরেন্টে কাজ করে প্রতিদিন রাত এগারোটার সময় বাসায় ফিরে। কিন্ত এই সাঁকো না থাকার কারণে ভিজে আসতে হয় বাড়িতে। মেয়েটি ছোট তাই সবসময় টেনশনে থাকি কখন পানিতে পড়ে যায়।

এলাকার লোকজন জানান, খালে কোন অবৈধ বাঁধ দেওয়া নিষেধ এটা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এই পরিবারটির কথা চিন্তা করে আমরা একটি বাঁধ তাদের জন্য দিয়েছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধটি কেটে আমরা একটা সাঁকো দিয়ে দেই। কিন্তু অবৈধভাবে জাল ফেলার ও শত্রুতার কারণে সাঁকোটি ফেলে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এইটুকু খালে তিনটি বাঁধ এবং কৃষকের বীজতলা সব সময় ডুবে থাকে।কৃষি কর্মকর্তার কাছে স্থানীয়দের দাবি, আমাদের খালের এই বাঁধ কেটে দেওয়া হোক এবং এই সাতটি পরিবারকে সাঁকো বা কালভার্ট তৈরি করে দিলে আমাদের কৃষকের আর পানি আটকাবে না কোথাও। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল হাওলাদার বলেন, আমি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বাধ্যনই। এবিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ রুহল আমিন হাওলাদার বলেন, এই সাঁকোর জের ধরে রুহল আমিন কে মারধর করে দুলাল প্রাই একমাস জেল খেটেছে। মুক্তির পর দুলাল আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এক কোড়ালিয়ার খালের ওপারে থাকা সাতটি পরিবার খুব অসহায় আছে। তাদের টিউবওয়েল নেই, ভালো রাস্তা নেই। এই পরিবার গুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন। লেখাপড়ার সমস্যা হয়। আমি চেষ্টা করছি একটা ভালো কার্লভাট অথবা একটা সাকো তৈরি করে দেওয়ার জন্য।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইএনও) আবুল হাসনাৎ মোঃ শহিদুল হক বলেন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ানের পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম শিকদারে সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করবো।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *