Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
News Headline :
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বরিশাল ১০নং ওয়ার্ড আ’লীগের আনন্দ র‌্যালি বরিশালে চাকরি প্রার্থীদের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা আরএম গ্রুপ কুয়াকাটা সৈকতে রাতের আকাশে ফানুসের মেলা কাউন্সিলর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত পটুয়াখালীতে ১৪ মণ জাটকা জব্দ, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা গভীর রাতে সাজেকে ৪ রিসোর্ট পুড়ে ছাই, সাড়ে ৩ কোটি টাকার ক্ষতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেকর্ড সংখ্যক ভর্তির আবেদন বরিশালে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২যুগ পূর্তি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পূস্পার্ঘ অপর্ণ যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী এবার বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিলো সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণখেলাপি নয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণখেলাপি নয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক // আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্যও বাড়তি সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করলেও তাদের খেলাপি করা যাবে না। এমন সুযোগ দিয়ে গতকাল বুধবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপিদের জন্যও পোয়াবারো হলো। তারা ঋণ পরিশোধ না করেও তিন মাস নিশ্চিন্তে কাটাতে পারবে। তবে এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ আদায়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর্থিক খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান ও আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, অর্থনীতির সামগ্রিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে। তবে কিছু সুযোগ সন্ধানী ঋণখেলাপিদের জন্য পোয়াবারো হয়েছে। তারা ব্যবসা মন্দার কথা বলে আগে থেকেই ঋণ পরিশোধ করছিল না। বরাবরই তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এ কারণে সেপ্টেম্বরের পর এসব ঋণ আবার খেলাপি হয়ে যাবে। তাই এসব ঋণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এখন থেকেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যৎ যেকোনো সঙ্কট মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান মুনাফার পুরোটাই না দেখিয়ে বাড়তি প্রভিশন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, আইপিডিসি জুনভিত্তিক যে পরিমাণ মুনাফা দেখিয়েছে তার সমপরিমাণ বাড়তি প্রভিশন সংরক্ষণ করে রেখেছে। যেমন, জুনে তারা মুনাফা দেখিয়েছে ৩২ কোটি টাকা, অথচ এ সময়ে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ৩০ কোটি টাকার বাড়তি প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বিএলএফসিএর ভাইস চেয়ারম্যান ও আইআইডিএফসির এমডি মো: গোলাম সারওয়ার ভুঁইয়া গতকাল এ বিষয়ে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারের ফলে নগদ আদায়ে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবে যাদের কিস্তি ইতোমধ্যে ওভারডিউ হয়েছে তাদের জন্য ভালো হয়েছে। কারণ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণসুবিধা পাওয়া এবং ও ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা নিতে হলে ঋণ নিয়মিত থাকতে হবে। ঋণখেলাপি হলে গ্রাহক এ সুবিধা পাবেন না। এ কারণেই এ সার্কুলারের ফলে ঋণ অনিয়মিত হয়েছে এমন গ্রাহকরা এ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

জানা গেছে, আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী এমন দুই-চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আগে থেকেই জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ স্থগিত হওয়ায় ঋণ আদায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ওপর করোনার কারণে তিন মাস বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে মহাবিপাকে পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আবার পিপলস লিজিংসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা দিতে পারছে না। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণকেলেঙ্কারির দায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ও এনআরবি ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার পলাতক রয়েছেন। ইতোমধ্যে অবসায়ন করা হয়েছে পিপলস লিজিং। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পথে বসার উপক্রম। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যারা আমানত রাখতেন তারা অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমানত প্রত্যাহারের চাপ ছিল আগে থেকেই। এর ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনা।

এ বিষয়ে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি জানান, আগে থেকেই আমানত প্রত্যাহারের চাপ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। এর ওপর প্রথমে জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ স্থগিত করায় তাদের কাছ থেকে যারা ঋণ নিয়েছিল তারা কার্যত ঋণপরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছে। এটাই তাদের জন্য বড় বিপত্তি হয়েছে। একেতো তারা আমানত পাচ্ছে না, এর ওপর টাকা আদায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের নগদ অর্থের প্রবাহ শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। এখন আরো তিন মাসের জন্য খেলাপিদের ছাড় দেয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেকায়দায় পড়ে যাবে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য টিকে থাকাই দায় হয়ে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের এখন থেকেই বিকল্প অর্থায়নসহ সার্বিক বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *