Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বেতাগীর সেই সুরু পাগলী অবশেষে পুনর্বাসনের সহায়তা পেল

বেতাগীর সেই সুরু পাগলী অবশেষে পুনর্বাসনের সহায়তা পেল

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক // ‘মোরে ওম্মে নিস না, মুই ওম্মে যামু না, তোরা মোরে খাওন দ্যাও।’ এ কথাগুলো বলছিল ষাটোর্দ্ধ সুরু। তিনি সুরিয়া পাগলী নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বরগুনার বেতাগী পৌর শহরের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় অফিসের সামনে পরিত্যাক্ত অন্ধকার গলিতে তার অবস্থান। কেউ খাবার দিলে খায়, আবার খাবার না পেলে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া ময়লা ও আর্বজনাযুক্ত পঁচা খাবার কুঁড়িয়ে কুঁড়িয়ে খেয়ে জীবন যাবন করতো। কোন কোন দিন না খেয়েও থাকতো।

এভাবে পরিত্যাক্ত অন্ধকারে পলিথিন মুড়ি দিয়ে কোনরকম জীবন সংগ্রাম করে বাঁচতে হতো তাকে। পরনের কাপড়ের কোন ঠিক ঠিকানা ছিল না। কোথাও পড়ে গিয়ে বাম পায়ে আঘাত পেয়েছেন। পচন ধরে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সুরিয়া পাগলীর বাড়ি ঘর কোথায় কেউ তা সঠিকভাবে বলতে পারে না। কেউ জিজ্ঞাসা করলে সঠিকভাবে কিছু বলতে পারে না। লোকজনের ভিড় দেখলে মাঝে মধ্যে বলে ‘তোরা মোরে খাওন দ্যাও।’ গুন গুন করে গানও করে তা স্পষ্ট কিছুই বোঝা যায় না।

গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ এবিএম গোলাম কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সুহৃদ সালেহীন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌর মেয়র আলহাজ এবিএম গোলাম কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সুহৃদ সালেহীনের নেতৃত্বে যুব রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বেতাগী উপজেলা ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের টিম নিয়ে পরিত্যাক্ত অন্ধকার গলি থেকে সুরু পাগলীকে বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। নতুন কাপড়-চোপড় কেনা ও সার্বক্ষণিক দেখাশোনোর জন্য এক আয়াকে পৌর মেয়র দুই হাজার টাকা অর্থ প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন একটা অন্ধকার গলিতে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা জীবনযাপন করছে, দেরিতে হলেও তার পুনর্বাসন হয়েছে। এ উপজেলায় আর যেন কেউ এমন মানবতার জীবনযাবন না করে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মেয়র আলহাজ এবিএম গোলাম কবির বলেন, ‘মানবতার জীবনযাপন ও ঠিকানাবিহীনদের এভাবে খুঁজে খুঁজে পুনর্বাসনের ধারা অব্যাহত থাকবে।’

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *