Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
এখনো অপেক্ষায় তারা

এখনো অপেক্ষায় তারা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক // শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের লেভেল-৫ এর ওয়েটিং রুমে স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ১৩ জন এখানে চিকিৎসাধীন। স্বজনরা এখানে দিনরাত নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন। প্রিয় স্বজন সেরে উঠে বাসায় ফিরবে- অপেক্ষায় আছেন তারা। একে একে ২৪ জন মানুষের মৃত্যু তাদের গভীর ভাবনায় ফেলেছে। ভয় আর শঙ্কা নিয়ে কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত। হাসপাতালের বিছানায় আশায় বুক বেঁধে সেরে উঠার অপেক্ষায় আছেন ইমরান (৩২), আমজাদ (৩১) এবং শেখ ফরিদসহ (২১) আরো অনেকে। ইমরান এবং আমজাদ সম্পর্কে ভায়রা ভাই।

তাদের মধ্যে আমজাদের শরীর দগ্ধ ৬৫ এবং ইমরানের ৭৫ ভাগের বেশি। শ্বাসনালি পুড়ে গেছে দু’জনের। ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ইমরানের মা এবং শ্বশুর-শাশুড়ির বিলাপ যেন থামছে না। ইমরানে শ্বশুর মজিবুর রহমান বলেন, আমার দুই মেয়ে জামাই ইমরান এবং আমজাদ। তারা দু’জনে একটি কোম্পানির গাড়ি চালান। কাজ শেষে দু’জনে একসঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়েন। ওইদিন তারা একত্রে মসজিদে যান। তিনি বলেন, ফকির নিটওয়্যারস লিমিটেড নামে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন একসঙ্গে। তারা সব সময় একসঙ্গে থাকতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো সব সময়। দু’জন একসঙ্গে মসজিদে নামাজে গেলেন, আর ফিরলেন দগ্ধ হয়ে। আমার বড় মেয়ে মৌটুসি আর ছোট মেয়ে মুক্তা বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। ঘটনার দিন আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার ছোট মেয়ের জামাই আমজাদ হোসেন দৌড়ে এসে বলে, আব্বা আমার সব পুড়ে গেছে। আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চলেন। তখন তার শরীরে একটি পুড়ে যাওয়া জামা ছিল। মাথায় পুড়ে যাওয়া টুপি লেপ্টে ছিল। পুড়ে যাওয়া জামাটি এখনো বাড়ির পাশের একটি নারিকেল গাছে ঝোলানো রয়েছে। আমজাদকে ধরামাত্রই বড় মেয়ের জামাই ইমরান হোসেন দৌড়ে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন ইমরানের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। সব পুড়ে ছাই।
দগ্ধ আমজাদের কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাই বলেন, ভাইয়ার উপার্জনের টাকায় আমাদের ১০ সদস্যদের দু’টি পরিবার চলতো। আমাদের পড়ালেখা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ ভাইয়া চালাতেন। কাছে গেলেই ভাইয়া এখন বলেন, আমি বাঁচবো তো ভাই! তাকে মানসিকভাবে সাহস যোগাতে বলি হ্যাঁ ভাইয়া, ডাক্তার বলেছে তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে। তাছাড়া দগ্ধদের মধ্যে তোমার অবস্থা সবচেয়ে ভালো। স্বজনদেরকে ফোনে তার একটিই আকুতি, আমি বাঁচবো তো? ভাইয়া না থাকলে কী হবে জানি না। যদিও চিকিৎসক জানিয়েছেন তাদের বাঁচার আশা ক্ষীণ। গতকাল সামান্য কথা বলতে পারলেও আজকে কম কথা বলছে।     

নারায়ণগঞ্জে ডিসি কার্যালয়ের অফিস সহকারী (পিয়ন) শেখ ফরিদের মা খোদেজা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ। আমরা গরিব মানুষ। ছেলের আয়ে আমাদের সংসার চলে। বাবা তুমি আমার কোলে ফিরে আসো। আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও, আর কিছু চাই না। শেখ ফরিদের মামা বুলবুল হোসেন বলেন, চিকিৎসক বলেছেন অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে এখন কথা বলতে পারছে না। হাতের ইশারায় কথা বলছে। তার শরীর ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসায় থাকতো ফরিদ। ঘটনার দিন আজানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে চলে যায়। দগ্ধ ফরিদ জানায়, নফল নামাজ দুই রাকাত পড়া শেষে জুতা নিয়ে গেটের কাছে যাওয়া মাত্রই পেছন থেকে আগুন এসে আমার গায়ে পড়ে। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে ফরিদ সবার বড়।
মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আহতদের মধ্যে ১৩ জনের কেউই শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, যারা এখনো বেঁচে আছেন তাদের অবস্থাও খুব জটিল। অনেকেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী আহতদের খোঁজ নিয়েছেন। এবং সম্ভাব্য সবকিছু করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *