Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
পদত্যাগ করে আইসিইউতে ভর্তি আল্লামা শফি

পদত্যাগ করে আইসিইউতে ভর্তি আল্লামা শফি

বাংলার কন্ঠস্বর // অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব ছাড়লেন শাহ আহমদ শফী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শূরা কমিটির কাছে পদত্যা করলে তাকে একেবারে সরিয়ে না দিয়ে মাদ্রাসার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করার পর মধ্যরাতে আল্লামা শফির শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। মাদ্রাসায় আন্দোলন চলা অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানকার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সালাউদ্দীন নানুপুরী। তিনি বলেছেন, মাদ্রাসার মজলিসে শূরার বৈঠকের সিদ্ধান্ত মাইকে প্রচার হওয়ার পর হঠাৎ আল্লামা শফি অসুস্থতা অনুভব করেন। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চমেকে নিয়ে যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে তিনি আইসিইউ ৮ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন।

আল্লামা শফি হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব ছাড়লেও তার ছেলে আনাস মাদানীকেও মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শফীর অনুসারী আরেক শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম মাদ্রাসার সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বরখাস্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে নানুপুরী বলেন, ‘বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়ায় মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বভার শূরা কমিটির ওপর ন্যস্ত করেন। কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে তারাই পরিচালক নির্ধারণ করবেন। পরে শুরা কমিটি আহমদ শফীকে উপদেষ্টা হিসেবে হিসেবে রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শফী হুজুরের অনুসারী শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম মাদ্রাসার সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বরখাস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া হুজুরের ছেলে আনাস মাদানীকেও মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাদের মধ্য দিয়ে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় দৃশ্যত আহমদ শফীর সুদীর্ঘ দিনের কর্তৃত্বের অবসান ঘটল। এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে স্বপদে পুনর্বহালের চেষ্টার খবরে বিক্ষোভ করে প্রতিষ্ঠানটির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টার পর মাদ্রাসা মাঠে জমায়েত হয়ে তারা ফের বিক্ষোভ শুরু করে। সকাল থেকে পুরো মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নেন আন্দোলনরতরা। শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার সব গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং আনাসপন্থি কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষে ভাঙচুর চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধের আদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কারণ হিসেবে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের শর্ত মানা হচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রজ্ঞাপনে।

এদিকে হেফাজত আমির আহমদ শফীর পক্ষে তার একান্ত ব্যক্তিগত সচিব শফিউল আলম ফেসবুক লাইভে এসে মাদ্রাসার সর্বশেষ অবস্থা জানান। লাইভ ভিডিওতে এ সময় আল্লামা আহমদ শফীকেও দেখা যাচ্ছিল। শফিউল ভিডিও লাইভে বলেন, ‘আল্লামা শফি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন। তিনি তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।’

গত বুধবার মাদ্রাসা পরিচালনার শূরা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাসচিব আনাস মাদানীকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে আনাসকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্ররা। শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার ভেতরে বিক্ষোভের সময় প্রচারপত্র বিলি করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-আনাসকে অব্যাহতি দেওয়া, আনাস কর্তৃক বহিষ্কৃত তিনজন শিক্ষককে পুনর্বহাল করা। আনাস নিয়োগকৃত সব অযোগ্য শিক্ষককে ছাঁটাই করা। ছাত্রদের ওপর জুলুম-হয়রানি বন্ধ করা। আহমদ শফী বয়স্ক হওয়ায় একজন দক্ষ আলেমকে মাদ্রাসার পরিচালক নিয়োগ করা। শূরা কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, নুরুল আমীন, আবুল কাসেম ফেনীসহ বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া। গতকাল আহমদ শফী পদত্যাগ করলে রাতে মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করে দেশের ১০১ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইমাম-খতিব এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদ্রাসার ভেতরগত বিষয়ে মুরব্বিরা বিশেষ করে শূরা সদস্যরা বিচার-বিবেচনা করবেন, এটাই দেশবাসী প্রত্যাশা করে। বিবৃতি প্রদানকারীরা হলেন-মুফতি আহমদুল হক, মুফতি ইনামুল হক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা শামসুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা জানান, আমির আহমদ শফী ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ জুন জুনায়েদ বাবুনগরীকে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমেদকে। তিনি হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া বাবুনগরীর ভাগিনা মাদ্রাসার শিক্ষক আনোয়ার শাহকে মাদ্রাসা থেকে এক মাস আগে বের করে দেওয়া হয়। সবকিছু মিলিয়ে বাবুনগরীর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হন আনাসের ওপর। তাদের অভিযোগ, আহমদ শফী বয়স্ক হওয়ায় তাকে ভুল বুঝিয়ে আনাস এসব কাজ করিয়েছেন। এতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সাত হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠান কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *