Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মক্তব শিক্ষাব্যবস্থা

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মক্তব শিক্ষাব্যবস্থা

তবে মুসলিম পরিবারে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ ধর্মীয় মাসয়ালা-মাসায়েল শেখার অন্যতম ব্যবস্থা ছিলো এটি। ইহকালে শান্তি ও পরকালের নাজাতের শিক্ষার শুরু এই মক্তব থেকেই। এ শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনরা।

তবে এ শিক্ষা ব্যবস্থা এখন আর দেখা যায় না গ্রাম বাংলায়। কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শিশু শিক্ষার এই অন্যতম মাধ্যম। ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়ায় কিন্ডার গার্টেন, ক্যাডেট মাদরাসা, কওমি মাদরাসা ও এতিমখানা, হিফজখানা, কোচিং ব্যবস্থার আড়ালেই হারিয়ে গেছে মক্তব শিক্ষা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার ৯ ইউনিয়নের প্রায় ৮১ ওয়ার্ডেই এক সময় শিক্ষাব্যবস্থা চালু ছিল। একাধিক প্রবীণ জানান, মক্তব শিক্ষা বিলুপ্তির কারণে আমাদের দেশে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ দিকে শিশুরা ভবিষ্যতে ধর্মীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে।

তখন মক্তবে শিক্ষকদের মাসিক বেতন ছিল না, বার্ষিক আমন ধান জনপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ কেজি করে বেতন হিসেবে দেয়া হতো। কোনো কোনো মক্তবের শিক্ষকরা শুধু ছাত্রদের বাড়িতে খাবার খেয়ে (বেতন ছাড়া) জীবন-যাপন করতেন।

যদিও এখনো কোনো কোনো এলাকায় মক্তব শিক্ষা চালু রয়েছে, কিন্তু শিক্ষকরা আগের মতো ধান বা বেতন ছাড়া শিক্ষা দেয়ার নিয়ম নীতি নেই। এ শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষকরা ছাত্র/ ছাত্রী দের কাছ থেকে মাসে জনপ্রতি ৫০/১০০ টাকা পর্যন্ত বেতন হিসেবে নেয়া হয়, যা একেবারেই অপ্রতুল।

এ ব্যাপারে কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়তি হওয়ায় বেতনভাতাদি না নিলে চলা যায় না। আবার অনেক শিক্ষার্থী গরীব প্রতিমাসে বেতন ঠিকমতো উঠে না, বেশিরভাগ বড় লোকের সন্তানদের মক্তবে পড়ান না। ছাত্র/ছাত্রী দিন দিন কমে যাচ্ছে। শুধু মক্তবে শিক্ষকতা করে সংসার পরিচালনা করা আমাদের কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।

উপজেলার একাধিক ছাত্র অভিভাবক বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা একসময় মক্তবে পড়ালেখা করেছি। এখন মক্তব শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন ঝিমিয়ে পড়ায় আমাদের সন্তানদের কোরআন শিক্ষাসহ ধর্মীয় রীতিনীতির জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর বর্তমানে অসচেতনতার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের মক্তবে না পাঠিয়ে বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষা অর্জনের জন্য কোচিংয়ে পাঠিয়ে দেন।

তবে সচেতন মহলের দাবি বাংলা, ইংরেজি, গনিত ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মূলভাণ্ডার মক্তবের প্রতি যেন গুরুত্ব দেন মুসলিম জাতি।

এ ব্যাপারে লালমোহনের পূর্বচরউমেদ এলাকার ডা: আজাহার উদ্দীন রোডের মসজিদে মদিনার ঈমাম ও ওই এলাকার মক্তবের শিক্ষক ক্বারী আব্দুস সবুর বলেন, আমাদের দেশে এক সময় প্রতি গ্রামে অন্তত ২/৪টি মক্তবের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল, এখন পুরো গ্রাম খোঁজ করেও মক্তব চোখে পড়ছে না। আর এ বিশাল গ্রামে কোথাও মক্তব না থাকায় আমার এখানে ভীড় জমাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা, যা আমার একার পক্ষে পাঠদান করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।

পূর্বচরউমেদ আহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মো: ফারুক ও করিমগঞ্জ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো: রুহুল আমিন বলেন, উপজেলার প্রতি গ্রামে অন্তত একটি করে হলেও মক্তব থাকা প্রয়োজন। আগের মতো মক্তব না থাকায় এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে শিশুশ্রম।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *