Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বিজয়ের কাছাকাছি বাইডেন, আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প

বিজয়ের কাছাকাছি বাইডেন, আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প

বাংলাদেশ ক্রাইম // মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পথে অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে তিনি। ট্রাম্প তাই আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বাইডেনকে থামাতে চাইছেন।

 

কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে দুইদিন পরও ভোটগণনা চলছে। কয়েক জায়গায় এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে। পেনসিলভেনিয়া ও জর্জিয়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনছেন বাইডেন। নেভাডা ও আরিজোনায় ও অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

আগে থেকেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা ট্রাম্প এখনও ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। কোনও প্রমাণ দিতে না পারলেও একটি রাজ্যে ভোট পুনরায় গণনার জন্য মামলা করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নেভাডা ভোট জালিয়াতির মামলা করেছেন ট্রাম্প। এখানে অল্প ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন তিনি। কয়েকজন আইনি বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই মামলায় নির্বাচনি ফলের খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

মূলত করোনা মহামারির কারণে এবারের নির্বাচনের ধরন পাল্টে গেছে। সংখ্রমণ এড়াতে রেকর্ড পরিমান আগাম ভোট দিয়েছেন মার্কিনিরা। আর সেজন্যই ফল ঘোষণায় দেরী হচ্ছে।

এখনও উইনকনসিন, নেভাড এবং আরিজোনায় এগিয়ে আছেন বাইডেন। জর্জিয়া ও পেনসিলভেনিয়ায় ট্রাম্পের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ব্যবধান কম।

ট্রাম্পের একাধিক মামলা ও পুনরায় গণনার দাবিতে ফল পাল্টাতে আসলে হাজার হাজার ভোটের ওলটপালট হতে হবে। বাইডেনের প্রচার ব্যবস্থাপক জেন ও‘ম্যালি ডিলন বলেন, এসব মামলা আসলে ভিত্তিহীন। যা অবশ্যম্ভাবী সেটা কে দৃষ্টি এড়াতেই এসব করা হচ্ছে। জো বাইডেনই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের প্রচার ব্যবস্থাপাক বিল স্টিপেনের দাবি, এখনও ভালো অবস্থানে রযেছেন ট্রাম্প। জর্জিয়া ও পেনসিলভেনিয়র কিছু অঞ্চলে ডেমোক্রেটরা পিছিয়ে যাচ্ছে। আটলান্ট ও ফিলাডেলফেয়াতেও একই দৃশ্য।

জর্জিয়ায় কর্মকর্তারা বলছেন বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই তারা ভোটগণনা শেষে ফল জানাতে পারবেন। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ২ শতাংশ ভোট গণনা এখনও বাকি। পেনসিলভেনিয়ায় ট্রাম্প এগিয়ে আছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ভোটে। এখনও ৮ শতাংশ ভোট গণনা বাকি।

যেসব রাজ্যে এগিয়ে আছে সেগুলো সহ আরিজো ও নেভাডায় জয় পেতে হবে ট্রাম্পকে। কিন্তু ভোটগণনার সময় বেশ কিছু রাজ্যে অবস্থান হারানোয় ট্রাম্প হতাশ হয়ে পড়েছেন। টুইট করছেন যে দভোট গণনা বন্ধ করুন এই প্রতারণা বন্ধ করুন।

ট্রাম্পের দুই পরামর্শক বলেন- আইনের ব্যাপারে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরামর্শকদের সঙ্গে আলাপ করছেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। এখন পর্যন্ত বাইডেনের ভোট ২৫৩ এবং ট্রাম্পের ২১৪। সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী উইসকনসিনে বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে তার ভোট সংখ্যা আরও ১০টি বেড়ে যাবে।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পোলারাইজেশন ছিলোনা। তবে বর্ণ, আর্থসামাজিকভাবে পার্থক্য ছিলো। শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানসিকতার ভিন্নতাও স্পষ্ট ছিলো এবার।

৮ ডিসেম্বর মধ্যে নির্বাচনি বিরোধ মীমাংসার শেষদিন। ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন।

ট্রাম্পের প্রচার দল উইসকনসিনে পুনরায় গণনার আবেদন জানিয়েছেন। সেখানে ৩৩ লাখ ভোটের মধ্যে ২১ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনারয় গণনা করা হলেও ফল পাল্টানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের এখন নেভাডায় মামলার পরিকল্পনা। তাদের দাবি, এখানে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। যারা লাস ভেগাস থেকে চলে গেছে এবং মৃত তাদেরও ভোট পড়েছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া মিশিগান ও পেনসিলভনেয়ায় ভোট গণনা বন্ধে মামলা করেছে তারা। মিশিগানের কর্মকর্তা জোসেলিন বেনসন এই মামলাকে দঅবুঝ‘ বলে উল্লেখ করেছেন।

জর্জিয়ার চাথাম কাউন্টিতে ভোট গণনা বন্ধে মামলা করেছে ট্রাম্প শিবির। সেখানে আগের করা এক মামলায় ট্রাম্প যুক্ত হচ্ছেন। যেখানে বলা হয় নির্বাচনের পরদিন আসা ডাকযোগে ভোট গণনা করা যাবে না।

ট্রাম্প বারবার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও মার্কিন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট জালিয়াতির ঘটনা ও সম্ভাবনা খুবই বিরল।

এদিকে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়দিনের মতো সব ভোট গণণার দাবি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে। ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, ফিনিক্স, ডেট্রোয়েটসহ বেশ কিছু শহরে রাস্তায় নেমে এসেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের স্লোগান ছিলো দকাউন্ট এভরি ভোট।’

তবে ট্রাম্প সমর্থকরা পাল্টা আন্দোলন করে স্লোগান দিচ্ছেন দপ্রটেক্ট দ ভোট; (ভোটকে রক্ষা করো) বুধবার প্রায় ২০০ সশস্ত্র ট্রাম্প সমর্থক ফিনিক্সের নির্বাচনি দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। সেসময় তাদের হাতে হ্যান্ডগান ও রাইফেল ছিল।

দেশজুড়ে ট্রাম্পের চেয়ে ৩৬ লাখ বেশি ভোট পেয়েছেন বাইডেন। ২০১৬ সালে কম ভোট পেয়েও হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেবার হিলারির চেয়ে ৩০ লাখ ভোট কম পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইলেকটোরাল ভোট জিতে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন এই রিপাবলিকান প্রার্থী।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *