Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
টেস্ট ক্রিকেটের ২০ বছর, ‘আলোহীন’ সাফল্য

টেস্ট ক্রিকেটের ২০ বছর, ‘আলোহীন’ সাফল্য

বাংলাদেশ ক্রাইম // ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের টেস্টের যাত্রা। এর আগে একই বছরের ২৬ জুন নবম দেশ হিসেবে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে ২০টি বছর। তবে এই ২০ বছরে ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ সাফল্যের আলো দেখেছে খুবই কম।

 

টেস্ট ক্রিকেটের সদস্য সংখ্যা এখন ১২। সদ্য মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে সরিয়ে রাখলে গেল ২০ বছরে বাংলাদেশের আশার জায়গা আসলে কম। কেবল জিম্বাবুয়ের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম ২০ বছরে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ১১৯টি, এই সময়ে জিম্বাবুয়ে টেস্ট খেলেছে ৬৪টি। তবে বিভিন্ন কারণে জিম্বাবুয়ে কয়েকবছর নিজেরাই টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে ছিল।

অন্যদিকে একই সময়ে ক্রিকেটের সবথেকে পুরনো এই ফরম্যাটে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সব থেকে এগিয়ে। গত দুই দশকে সর্বোচ্চ টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। ২৫৫টি টেস্ট খেলেছে তারা। অন্যদিকে ২২৪টি টেস্ট খেলে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া।

টেস্টে ভারতও নেই পিছিয়ে। খেলেছে ২০৯ টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছে ১৯৪ ম্যাচ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮৪। সমান ১৬১ ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। এই সমীকরণে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের টেস্ট না খেলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বড় দল গুলোর সাথে সূচি না পাওয়া। অন্যদিকে নিজেদের টেস্ট খেলা নিয়ে অনীহাও কম নেই। শেষ কয়েক বছরের দিকে তাকালে দেখা যাবে টেস্ট কমিয়ে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডের দিকে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ এই পর্যন্ত যতগুলো টেস্ট খেলেছে তার ফলাফলও খুব একটা ভালো নয়। দুই দশকে ১১৯ টেস্টের মধ্যে জিতেছে মাত্র ১৪টি ম্যাচ। ড্র করতে পেরেছে ১৬ টেস্ট। আর হেরেছে বাকি ৮৯টিতেই। যার মধ্যে আবার ৪৪টিতেই আছে ইনিংস ব্যবধানে হার। এদিকে নতুন টেস্ট মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষেও তিক্ত হারের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের।

আর এই ১৪ জয়ের মধ্যে ৭টি জয়ই খাতা-কলমে অনেক পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৪ জয় আছে জিম্বাবুয়েরর বিপক্ষে। অন্য তিন জয় অবশ্য বড় দল ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড এরপর ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ওদের মাঠে হারানোর সুখকর স্মৃতিও আছে তামিম-সাকিবদের। তবে সাদা পোশাকে এছাড়া আর কোন সাফল্য নেই বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের টেস্টের সাফল্যের পথে সবথেকে বড় বাধা মনে করা হয় পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার অভাব। যে কয়েকটি ম্যাচ বছরে খেলা হয় সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকে জিম্বাবুয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া এখনো একটা নির্দিষ্ট ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করতে পারেনি বাংলাদেশ। এছাড়া এখনও বাংলাদেশ খুঁজে ফিরছে জুতসই একটি পেস আক্রমণ। টেস্ট ক্রিকেটের ভিত তৈরি করে দেবে যে প্রথম শ্রেণির কাঠামো, তা-ও ভীষণ দুর্বল অবস্থায় পড়ে আছে।

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে উদ্বেধনী টেস্টে বাংলাদেশর হয়ে খেলা হাবিবুল বাশারের মতে, ‘দেখেন, আমাদের প্রথম চার বছর ছিল শেখার। আমাদর অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে যা খুবই স্বাভাবিক। তবে আস্তে আস্তে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে ভালো খেলা শুরু করেছি। এখন কিন্তু আমাদের পারফর্মার একেবারে কম না। পারফর্মার বেড়েছে এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়ও দলে আছে। তবে সমস্যা হলো এখনো আমরা ধারাবাহিক হতে পারিনি। দলে এত পারফর্মার থাকার পরেও আমাদের পারফরম্যান্স ওঠানামা করে। এটা ঠিক যে আমরা বড় বড় দলগুলোকে হারিয়েছি কিন্তু দলের অধারাবাহিকতা আমাকে ভাবায়।’

ক্রিকেটারদের টেস্টে ধারাবাহিক না হওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এবার বলি আমাদের ছেলেরা কেন অধারাবাহিক। কারণ তারা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না। বেশি বেশি ম্যাচ খেললে আমরা অনায়াসেই এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। বেশি বেশি ম্যাচ বলতে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি দুটোই। আগে অবশ্য উইকেট নিয়ে একটা ভাবনা ছিল যে ফ্ল্যাট উইকেট হত। এখন কিন্তু সেই সমস্যাটা নেই। প্রায় প্রতিটি ভেন্যুতেই স্পোর্টিং উইকেট হতে শুরু করেছে।’

তবে করোনাভাইরাস মহামারি না এলে এই বছরই নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে তা ভেস্তে যাওয়ায় এই সংস্করণে উন্নতির ধাপটা আরও পিছিয়ে গেছে। সামনের সময়ে টেস্ট খেলার সূচি, মানসিকতা, প্রস্তুতির উপর অনেকখানি নির্ভর করবে বাংলাদেশের আগামী।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *