Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
‘স্বামীদের ওপর কর্তৃত্ব করতে নির্যাতন করেন স্ত্রীরা’

‘স্বামীদের ওপর কর্তৃত্ব করতে নির্যাতন করেন স্ত্রীরা’

বাংলাদেশ ক্রাইম // খবরের কাগজ খুললেই প্রতিদিন চোখে পড়ে নারী নির্যাতনের খবর। তবে পুরুষশাসিত সমাজ হলেও পুরুষ নির্যাতনের খবরগুলো থেকে যায় অগোচরে। বিভিন্ন মামলার পর্যালোচনা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে, নিজ গৃহে পুরুষ নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।

সুমাইয়া ছদ্মনাম বয়স (৪০)। স্বামী ফয়সাল ছদ্মনাম ব্যবসায়ী (৫০)। এই দম্পতির বিয়ের বয়স প্রায় ২১ বছর। দুই সন্তান নিয়ে জীবন সুখে-শান্তিতে কাটানোর কথা থাকলেও পরিবারে কারণে-অকারণে কলহ লেগেই থাকে। সুমাইয়া চাকরিজীবী হাওয়ায় লকডাউনে সারাদিন বাসায় থাকায় গত ছয় মাসে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তাদের সম্পর্ক।

স্বামী ফয়সালের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর কাছে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। স্ত্রীর ইচ্ছেমতো না চললেই শুরু হয় অশান্তি। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড শুরু করে দেন সুমাইয়া। এমনকি রাগ সংবরণ করতে না পেরে গায়ে হাত তোলেন স্বামীর। দ্বিধা করেন না কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় দিতে। বাচ্চাদের সামনে এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ফয়সাল চেষ্টা করলেও এ নিয়ে সুমাইয়ার নেই কোন মাথাব্যাথা। উপরন্ত এ বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু বোঝাতে গেলেই সুমাইয়া ডিভোর্স চান ফয়সালের কাছে।

তবে ফয়সালের এক কথা, এতগুলো বছর যখন পার করেছি বাকি জীবন কষ্ট হলেও এভাবেই চালিয়ে নেব। ফয়সাল ও সুমাইয়ার সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, ফয়সালের প্রায় একক প্রচেষ্টায় টিকে রয়েছে সংসার। এমনকি সুমাইয়ার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফয়সাল ভীষণ ধৈর্যশীল হওয়ার কারণেই সংসার করতে পারছেন এ দম্পতি।

এমনই আরেক দম্পতি আকরাম ছদ্মনাম (৩৫) ও মিথিলা ছদ্মনাম (৩২)। আকরাম একটি বেসরকারি কোম্পানিতে প্রকৌশলী পদে কর্মরত। স্ত্রী মিথিলা গৃহিণী। স্বভাবে শান্তিপ্রিয় এবং অন্তর্মুখী আকরাম সবসময় ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান। এক সন্তানসহ এই দম্পতির তিনজনের সংসারে মিথিলা সংসারের কোন কাজ করতে রাজি নন। সেজন্য উচ্চ বেতনে রেখেছেন একাধিক কাজের লোকও। তবে এসব কোন বিষয় নিয়ে আপত্তি নেই আকরামের। গৃহকর্মীর হাতের রান্না খেতে না পারলেও এ বিষয়ে স্ত্রীকে বলেন না কিছুই। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সব ধরনের আবদার মেনে নেন। সামান্য একটু এদিক ওদিক হলেই স্ত্রীর মন্দ আচরণ শুরু হয়ে যায়।

এমনকি স্ত্রীকে খুশি রাখতে বিয়ের পর নিজের বাড়িতে সেভাবে যান না আকরাম। ঈদ বা যেকোনো উৎসব উদযাপন করেন শ্বশুরবাড়িতে। এসব নিয়ে মন খারাপ থাকলেও হাসিমুখে মেনে নেন সব। এত গেল আকরামের মানসিক নির্যাতনের চিত্র। রয়েছে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও। স্ত্রীর কোন কথায় সামান্য দ্বিমত করলেই আকরামকে খামচে দেন মিথিলা। এ ছাড়াও হাতে যা থাকে তাই ছুঁড়ে মারেন আকরামের দিকে। আকরামের ভাষায়, এত ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মিথিলা প্রতিক্রিয়া দেখায় যে আমি নিজেই বুঝতে পারি না কীভাবে তার মন জুগিয়ে চলতে হবে। তবে এত কিছুর পরও সবকিছু মেনে নিয়ে হাসিমুখে জীবন কাটিয়ে দিতে চান এই প্রকৌশলী।

সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ চিত্র শুধু আকরাম বা ফয়সাল দম্পতির নয় নয়। সংসারে শান্তি বজায় রাখতে লোকলজ্জার ভয়ে মুখ বুজে নীরবে নির্যাতন সহ্য করছেন হাজারো পুরুষ। সন্তান-সন্ততির কথা চিন্তা করে বেশিরভাগ পুরুষ দিনের-পর-দিন স্ত্রীর নির্যাতন নিপীড়ন ও হুমকি ধামকি সহ্য করে যাচ্ছেন।

৮০ শতাংশ পুরুষ গৃহে নির্যাতনের শিকার

সম্প্রতি বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংগঠন তাদের এক গবেষণায় জানিয়েছে, বিবাহিত পুরুষদের ৮০ শতাংশ গৃহে নির্যাতনের শিকার হন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শেখ খায়রুল আলম জানান, নির্যাতিত পুরুষদের নানা ধরনের পরামর্শ ও আইনি সহযোগিতার জন্য এ সংগঠনটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্যাতিত পুরুষদের আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করছেন তারা। দিচ্ছেন নানা ধরনের পরামর্শ।

তিনি বলেন, নির্যাতিত নারীদের জন্য অনেক সংগঠন থাকলেও পুরুষদের জন্য কোন সংগঠন নেই। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার দাবি করে জানান, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কেউই নির্যাতিত পুরুষদের পাশে দাঁড়াতে চায় না। আর সে লক্ষ্যেই তার সংগঠনটি গড়ে তোলা।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদে পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি। এই আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে পুরুষ নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার পুরুষরা বলছেন, নির্যাতনের শিকার হলেও তাদের জন্য আইনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না। বিয়ের সময় স্ত্রীর বাড়ি কর্তৃক অতিরিক্ত দেনমোহর নির্ধারণের ফলে এই অসুস্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না অনেকে। এ ছাড়া সামাজিক মর্যাদা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, হামলা-মামলা ও কোর্ট পুলিশের ভয়ে নীরবে নির্যাতন সহ্য করে চলেছেন অনেকে। উপরন্তু সামান্য প্রতিবাদ করতে গেলেই অপর পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা মামলার হুমকি।

বদলে যাওয়া সমাজের নতুন চিত্র পুরুষ নির্যাতন

বদলে যাচ্ছে সমাজ। বদলে যাচ্ছে নির্যাতনের ধরণ। বদলে যাওয়া সমাজেরই একটি নতুন রূপ পুরুষ নির্যাতন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ইসরাত জাহান আইমুন বলেন, মেয়েরা এখন আগের থেকে অনেক বেশি স্বাবলম্বী। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাদের আচরণকে প্রভাবিত করছে। যে কারণে আগে মেয়েরা চুপচাপ নির্যাতন সহ্য করলেও এখন তারা উল্টো প্রতিবাদ করছে বা পুরুষরাই নারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

পুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়া অনেকটা দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে আমরা সাধারণত ভালো ভালো জিনিসগুলো বেশি করে প্রচার করি। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোনো বান্ধবী বা মেয়ের পরিচিত কেউ যখন ভালো জায়গায় খাচ্ছে, ঘুরছে, ভালো পোশাক পরা ছবি ফেসবুকে আপলোড করছে তখন স্বাভাবিকভাবেই যে নারী ওই ছবিটি দেখছে সে তার স্বামীর ওপরে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে এবং সেটি পূরণ না করলে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এগুলো পুরুষদের জন্য আর্থিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

এ ছাড়াও বিদেশি সিরিয়ালগুলো ও স্যাটেলাইট এর প্রভাব এ ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে রয়েছে উল্লেখ করে এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, সিরিয়ালগুলোতে সাধারণত পারিবারিক কলহ অধিকমাত্রায় দেখানো হয় যেখানে নারীদের সবসময় সাজগোজ করে পরিপাটি হয়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া আরও অনেক কিছু দেখায় যা আমাদের দেশীয় কালচারের সঙ্গে কোনভাবেই যায় না। কিন্তু এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেয়েরা সেভাবে জীবন যাপনের স্বপ্ন দেখেও পুরুষের প্রতি চড়াও হচ্ছে।

এ ছাড়া পারিবারিক সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে ভালোবাসার বন্ধন এখন আগের চেয়ে অনেকটাই হালকা। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিক স্খলন, উচ্চ বিলাসিত ইত্যাদি কারণে এখন একজন ছেলে বা মেয়ে চাইলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে একাধিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে আর এখান থেকেও সৃষ্টি হচ্ছে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার যা পরবর্তী সময়ে বিচ্ছেদের রূপ নিচ্ছে।

পুরুষদের আইনি সহায়তা কতটা দুষ্কর

নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল থাকলেও পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট আইন। সে ক্ষেত্রে পুরুষদের আইনি সহায়তা পাওয়া দুষ্কর কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে মানবাধিকার আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, নারীরা নির্যাতিত হওয়ার পাশাপাশি পুরুষরাও শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য আলাদা আইন না থাকলেও প্রতিকার আছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের পেনাল কোড অনুযায়ী, একজন আরেকজনকে আঘাত করলে যে শাস্তি পাবে ঠিক একইভাবে স্ত্রী যদি স্বামীকে আঘাত করে এবং স্বামী এ বিষয়ে ফৌজদারি মামলা করে তাহলে স্ত্রীও সেই পরিমাণ শাস্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে স্বামীকে প্রথমে থানায় গিয়ে মামলা করতে হবে। থানায় মামলা না নিলে কোর্টে মামলা করতে হবে।

যৌতুক আইন ২০১৮ সালের বিধান অনুযায়ী, কোন স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে টাকা চায় বা যৌতুক দাবি করে সে ক্ষেত্রে স্বামী মামলা করতে পারবে এবং এ ক্ষেত্রেও স্ত্রীর শাস্তির বিধান রয়েছে। স্ত্রী মিথ্যা মামলা করলে এবং পরবর্তী সময়ে তদন্ত সাপেক্ষে যদি প্রমাণিত হয় স্ত্রীর মামলা মিথ্যা সেখানে স্ত্রীর সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং বাংলাদেশ এ বিষয়ে সাজাও হয়েছে।

এই আইনজীবী বলেন, মেয়েরা শারীরিকভাবে দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করতে পারে না সে ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য বিশেষ আইন রয়েছে। তবে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে অনেক পুরুষ আমাদের কাছে আইনি সহায়তার জন্য আসছেন। আমরাও তাদেরকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিচ্ছি।

ইশরাত হাসান জানান, এ ধরনের অনেকগুলো অভিযোগ তার কাছে এসেছে। এবং অভিযোগকারীদের বেশির ভাগই সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীর অধিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের আকাঙ্ক্ষা নির্যাতন বৃদ্ধির মনোবৈজ্ঞানিক কারণ

পুরুষরা নির্যাতিত হওয়ার মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? এ প্রশ্নের উত্তরে মনোবিদ মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরুষদের এমন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে মনোবৈজ্ঞানিক কারণগুলোর মধ্যে প্রথমত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন নারীর অতিরিক্ত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার চর্চার মানসিকতা, নিজের রাগের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া, হীনমন্যতায় ভোগা এবং এ থেকে বেরিয়ে আসতে ভুলভবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা।

অনেক ক্ষেত্রে মানসিক কিছু অসুবিধা থাকে যেমন, ব্যক্তিত্বের সমস্যা, পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্কের ব্যাপারে সন্দেহ এছাড়াও কিছু ঐতিহ্যগত ভণ্ড বিশ্বাস। যেমন স্বামীকে হাতের মুঠোয় রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।তাছাড়াও যারা ঝামেলাপূর্ণ পরিবারে বড় হয়েছে তাদের মধ্যে এক ধরনের খারাপ বোধ তৈরি হয়। পুরুষদের প্রতি অধিক মাত্রায় মানসিক চাপ ও ব্যক্তিকে নির্যাতন করতে ত্বরান্বিত করে। একই সঙ্গে পুরুষদের ক্ষেত্রে লজ্জা, অপমান, ছোটবেলায় বুলিংয়ের শিকার হয়ে বড় হওয়া যা তার আত্মমর্যাদার জায়গাকে অনেক ছোট করে ফেলে।

পারস্পরিক যোগাযোগ দক্ষতার অভাব, নিজের অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের ধরণ, কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বড় হতে শেখা। নিজের ব্যাপারে ছোট মানসিকতা, তাছাড়া সামাজিক কাঠামো যেখানে নির্যাতিত হয়েও নিজের কথা বলতে পারার লজ্জা বা পৌরষত্বে আঘাত আসবে এই ভেবে ঝামেলাপূর্ণ সম্পর্ককে মেনে নেওয়া ইত্যাদি প্রণিধানযোগ্য।

এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আসা লোকের সংখ্যা খুবই কম উল্লেখ করে এই মনোবিদ বলেন, যে অল্প কিছু ব্যক্তি আসেন তাদের মধ্যে প্রধান ভয় থাকে সমাজ নিয়ে, যে সমাজ তাকে খুবই লজ্জা দেবে। বন্ধুদের সামনে সে যেতে পারবে না। তা ছাড়াও ঘরের মানুষ যদি জানতে পারে তবে আরও বেশি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠবে। এ ধরনের নির্যাতনের শিকার পুরুষরা খুবই অসহায় অনুভব করে। তারা মাদক ও সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়ে।

তা ছাড়া এসব পুরুষের কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে। যেমন-কোন কাজ সমাধান করতে না পারা, কোন কিছু মনে করা, সময় মেনে চলা এসবে খুবই অসুবিধা হয়। ব্যক্তির মধ্যে শারীরিক ও মানসিক অসুবিধা তৈরি হয় যেমন, উদ্বিগ্নতা, নিজেকে দোষারোপ করা, ভয়ের মধ্যে থাকা, হতাশা, আত্মহত্যা প্রবণতা, নেতিবাচকভাবে নিজেকে দেখা। হাই প্রেসার, হৃদরোগ ইত্যাদি। সর্বোপরি তাদের মধ্যে অসহায়ত্ববোধ এর জন্ম নেয় এবং একাকী হয়ে পড়ে। এ ধরনের সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিদরা।

এ ধরনের অসুবিধার মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই সামাজিক প্রথা ভেঙে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। নিজের ব্যাপারে নিজেদের সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেকটি ব্যক্তির স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। পারিবারিক নির্যাতন নিয়ে যে সব সংস্থা কাজ করছে তাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে বিচার চাইতে হবে। সেই সংস্থাগুলো পুরুষদের আইনি সহায়তা পেতে চেষ্টা করে।

আইন নারীবান্ধব হলেও এ ধরনের নির্যাতনের ক্ষেত্রে পুরুষরা উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে যদি বিচার চায় তবে সে পাবে‌ কারণ জেন্ডার ইস্যু হচ্ছে মূলকথা। পুরুষ বা নারী নয়। পুরুষদের উচিত প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে নিজের ঝামেলাপূর্ণ সম্পর্ককে উন্নয়ন করা বা বের হয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করানো। এতে ব্যক্তি তার নিজস্ব দ্বন্দ্ব নিরসন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ঐতিহ্যগত যে ধারণা লালন করে আমরা বড় হই সে ধারনা পাল্টে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা‌ দ্বৈত কাউন্সেলিং, পারিবারিক কাউন্সেলিং প্রয়োজনবোধে এ ধরনের অসুবিধায় খুবই ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *