Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
১১ বাসে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর যাত্রা

১১ বাসে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক // মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রথম দলটি নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে ১১টি বাসে করে শুরু হয় তাদের যাত্রা।

জানা গেছে, প্রথম যাত্রার রোহিঙ্গাদের আগে চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে সেখান থেকে নৌবাহিনীর ১৪টি জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক এসব রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭ ও ১৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

প্রতিটি বাসে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কতো পরিবার রোহিঙ্গা ভাসানচর যাচ্ছে তার কোনো সঠিক তথ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কক্সবাজার থেকে প্রপ্ত খবরে জানা গেছে, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে গতকাল বুধবার রাতে এবং আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যাম্প থেকে নিয়ে উখিয়া কলেজমাঠে জড়ো করা হয়। সেখান থেকে এই পর্যন্ত ১১টি বাস ভাসানচরে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেও আরও ২০টিরও শি বাস সেখানে রয়েছে। যেকোনো সময় ভাসানচর গমনেচ্ছু আরও রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাসগুলো রওনা করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাসানচরে প্রথম ধাপে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখা হবে ৫ থেকে ১১ নম্বর ক্লাস্টারে। তিন মাসের মজুদ সক্ষমতার খাদ্য গুদামে প্রস্তুত ৬৬ টন খাদ্যপণ্য রয়েছে সেখানে। তবে প্রথম দিকে রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করবে আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার।

তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ভাসানচরে গড়ে তোলা আশ্রয়ন প্রকল্পে ১৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি সাইক্লোন সেন্টারে থাকতে পারবেন ১ লাখ ১ হজার ৩৬০ জন রোহিঙ্গা। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছেন। পাচ্ছেন খাদ্য, চিকিৎসা। এমনকি শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা আছে।

রোহিঙ্গাদের জীবন যাপন নির্বিঘ্ন করতে আগেই ভাসানচরে পৌঁছেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় আড়াইশ সদস্য এবং ২২ এনজিওর কর্মকর্তারা। প্রথম দলের বসবাস শুরুর পর, কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা মিয়ানমারের বাকি নাগরিকরাও ভাসানচরে আসতে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার সরকারে অব্যাহত দমন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। সে থেকেই তারা বাংলাদেশে সরকারের আশ্রয়ে রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *