Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
নলছিটির শিক্ষক রিপন এখন আরও বেপরোয়া শীলতাহানির মামলা করায় এবার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

নলছিটির শিক্ষক রিপন এখন আরও বেপরোয়া শীলতাহানির মামলা করায় এবার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব বার্ত পরিবেশক // সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটিতে মো. রিপন হোসেন হাওলাদার নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মা বাদাী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় গত ২৫ নভেম্বর শিক্ষক রিপন হাওলাদার হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসেন। এরপর থেকে ওই শিক্ষক আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ধরাকে সরাজ্ঞান মনে না করে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমিক দিচ্ছে। এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে থানা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বক্ষেত্রেই আমার ক্ষমতা রয়েছে। মামলা করে আমার কিছু করতে পাবে না। এ পর্যন্ত আমি কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করেছি। সামনে এটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য যা করনীয় আছে আমি তা করবো। এসব কথা থানার সামনে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন শিক্ষক রিপন হাওলাদার। গতকাল এই প্রতিবেদকের কাছে এসব কথা বলেন ভিকটিমের মা মামালার বাদী শিরিন সুলতানা তুলে ধরেন। তিনি আর জানান, গতকাল আমাকে একাধিক রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরা এবং এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাকে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে আমি বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনকে জানালে তিনি আমাকে বলেন, সবার নামে মামলা করে দেন। তখন আমি বলি সবার নামে কি করে মামলা করবো। একথা শুনে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সাথে খারাপ আচারণ ও অশ্লিল ভাষায় কথা বলেন। এক পর্যায় আমি ফোন কেটে দেই। এ নিয়ে রিপনের পরিবারকে একাধিকবার বললেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সেই সুযোগে রিপন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। এ বিষয় স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান, রিপন শুধু এই ছাত্রীকেই নয়, বিভিন্ন সময় তিনি পথচারী থেকে শুরু করে স্কুলের ছাত্রীদেরও উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে এলাকার সবার জানা। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু রিপন কোন কথাই শোনেন না। এলাকা দিয়ে কোন মেয়ে হেটে গেলে তাদের ইভটিজিং করে থাকেন। রিপনকে কেউ কিছু বললে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু রিপনের কারনে আর কত মা-বোনেরা কাঁদবে। এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর মনে। তারা আরও বলেন, ছাত্রী শ্লীলতাহানির ঘটনা আমাদের সকলে জানা। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে কি অভিযোগ দাখিল করেন সেটাই এখন সকলের কাছে ভাবনার বিষয়। কারণ রিপন যেভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন তাতে করে বাদী শিরিন তার মেয়ের বিচার পাবে কি না সন্দেহ রয়েছে। মামলার বাদী আরও বলেন, রিপনের বিরুদ্ধে আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে প্রতিটা শিক্ষা দপ্তরে বিচার চেয়ে অভিযোগ করেছি।

 

আমি আমার সন্তানের বিচার চাই। একজন শিক্ষকের স্থান হলে মা-বাবার পরে। আর সেই শিক্ষকই যদি সন্তান সমতুল্ল্য ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করে তখন শিক্ষকের স্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। রিপন ও তার সন্ত্রাসবাহিনীর হুমকিতে বর্তমানে এলাকা ছাড়া এই পরিবারটি। পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভূতি দেখানোর মত কেউ নেই। কেউ তাকে সাহয্য করতে গেলে তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে রিপনের সন্ত্রাসীবাহিনী। এদের কারনে মামলার বাদী মামলা চালাতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, বিষয়টি আলোচিত বটে। এ ঘটনায় তদন্তের প্রেক্ষিতে আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হবে। ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জানেন। তাই এটা নিয়ে নাটক করার সুযোগ নেই। জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় রিপন ত্রাস সৃষ্টি করেছে এবং তিনি যে একজন শিক্ষক তা ভুলে গিয়ে সন্ত্রাস কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, রিপন উপজেলার মানপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং শহরের পুরানবাজার এলাকার মো.তাহের হাওলাদারের ছেলে। তিনি সবসময় স্কুলে আসা যাওয়ার পথে এবং পতিবেশি ওই ছাত্রীকে উত্ত্যাক্ত করতেন। গত ২১ অক্টোবর সকালে তিনি ওই ছাত্রীকে বাসার সম্মুখে একা পেয়ে ঝাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে তার শ্লীলতাহানি করেন। ওই সময় ছাত্রীর ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে রিপন সটকে পড়েন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *