Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
পদ্মা বাস্তবায়ন হলে দেশের তৃতীয় রাজধানী হবে বরিশাল

পদ্মা বাস্তবায়ন হলে দেশের তৃতীয় রাজধানী হবে বরিশাল

অনলাইন ডেস্ক // একচল্লিশ তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পূর্ণ অবয়ব নিয়েছে বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এই সেতু জনসাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মা সেতু উন্মুক্ত হলে অনেক পরিবর্তন আসবে দেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে বরিশালসহ এই অঞ্চলের ২৯টি জেলা পুরো দেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে। এসব জেলা হবে ব্যবসায়ী হাব। এক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি সহজ হবে। পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে।

রপ্তানিকারক শিল্প মালিকদের সংগঠন ইএবির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, পদ্মা সেতু স্বপ্ন না, বাস্তব। দেশের ২৯টি জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন হবে। একই সঙ্গে খুলনা হবে ব্যবসার চাবিকাঠি। তিনি বলেন, খুলনার অতীত ইতিহাস শিল্প নগরীর। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হলে খুলনা আবারও শিল্প নগরীতে রূপান্তরিত হবে বলে বিশ্বাস করি। আমদানি-রপ্তানিকারকরা চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে মোংলা বন্দরকে বেছে নেবেন দুই কারণে। প্রথমত সময় বাঁচবে। দ্বিতীয়ত অর্থ বাঁচবে। তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে রূপসা ও সুন্দরবন হবে কক্সবাজারের পরেই আরেকটি পর্যটনকেন্দ্র। সুন্দরবনের পাশে গড়ে উঠবে পর্যটন শিল্প। এ ছাড়াও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের এসব এলাকায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। ফলে ওই সব এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি শহরের ওপর চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এক কথায় বলতে গেলে বরিশাল হবে দেশের তৃতীয় রাজধানী।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন হবে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের অর্থনীতি পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন হবে। নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমবে। তখন আর চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। পায়রা বন্দর ও মংলা বন্দর সচল হবে। বন্দরগুলোকে ব্যবহার করা যাবে। জিডিপির গ্রোথ ২ শতাংশের ওপর হবে।

বাংলাদেশ নিট ওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। শিল্পায়নের বিকেন্দ্রীকরণ হবে। বরিশালের মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসবে। এসব অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিশেষ করে দুই ধরনের সুবিধা হবে। ওই অঞ্চলের শ্রমিকদের ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরমুখী হতে হবে না। তাদের কর্মসংস্থান হবে। অন্যদিকে জমির দাম কম হওয়ার পাশাপাশি বন্দর খরচ কম হওয়ায় পণ্যের উৎপাদন খরচ কম পড়বে। এর ফলে রপ্তানি আরও বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) পদ্মা সেতু নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিঃসেন্দেহে অবদান রাখবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল। এ সেতু চালুর পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন ঘটবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *