Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বানারীপাড়ায় বাদশা বাহিনীর হাত থেকে মন্দির রক্ষা ও প্রাণনাশের হুমকীর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বানারীপাড়ায় বাদশা বাহিনীর হাত থেকে মন্দির রক্ষা ও প্রাণনাশের হুমকীর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল :: মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার জম্বদ্বীপ গ্রামে এক জীবন্ত আতঙ্কের নাম। জামায়াতে ইসলামের অর্থযোগানদাতা ফকরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম জম্বুদ্বীপে অবৈধ জমি দখল, সরকারি খাস জমি দখল করে ইটভাটা তৈরি, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মত অপরাধ চালিয়ে আসছে।
সম্প্রতি ফখরুদ্দিনের বাদশা মিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী গ্রামের একটি কালী মন্দির ভেঙে ফেলার জন্য নিয়মিত সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে।

মন্দির সুরক্ষার পাশাপাশি ভক্ত-পূজারিদের জীবনের নিশ্চয়তা প্রদানের দাবিতে বৃহস্পতিবার ( ১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জম্বদ্বীপ মিস্ত্রি বাড়িতে অবস্থিত- ‘শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দির’ এর সাধারণ সম্পাদক অনিতা সমদ্দার। এসময় মন্দিরের সভাপতি হেমাঙ্গিনী মিস্ত্রি, সহ- সভাপতি চিত্ত রঞ্জণ মিস্ত্রি,সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় রঞ্জন মিস্ত্রী,সদস্য স্বরসতী মিস্ত্রি সহ ভক্ত-পূজারিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অনিতা সমদ্দার জানান, ২০০১-২০০৬ বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে বাদশা মিয়া ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা গ্রামের অনেক পরিবারকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। স্ত্রীর নামে লিখে নিয়েছে তাদের সমস্ত সম্পত্তি। একই সঙ্গে সন্ধ্যা নদীর তীরে সরকারি খাস জমি দখল করে নির্মাণ করেছে অবৈধ ইটভাটার কারখানা। তাদের বসতবাড়ি থেকে সন্তোষ মজুমদার নামে এক লোককে অস্ত্রের মুখে ভূমি অফিসে নিয়ে গিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে তার সমস্ত জমি বাদশা মিয়া তার স্ত্রীর নামে লিখে নেন। শরিকি সম্পত্তি হয় তাদের পরিবারের সদস্য পলাশ মিস্ত্রি আদালতে টাকা দাখিল করেন। গত ২০ নভেম্বর বরিশাল অতিরিক্ত জেলা জজ পলাশ মিস্ত্রির পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ে ফখর উদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়ার স্ত্রীকে এক সপ্তাহের মধ্যে উক্ত সম্পত্তি পলাশ মিস্ত্রিকে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। আদালতের রায়ের পর বাদশা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে জম্বদ্বীপ গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী জয় মা কালী মন্দিরটি ভেঙে ফেলার অপচেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে গ্রামে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে দ্রুত দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি প্রদান করে। অনিতা সমদ্দার জানান, বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জম্বদ্বীপ গ্রামে – শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দিরে আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রার্থনা ও পূজা করে আসছি।

গত একমাস ধরে বানরীপাড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া এবং তার সহযোগীরা আমাদের মন্দিরটি ভেঙে ফেলার জন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে। মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় তাকে এবং অন্যান্য পূজারীদেরকে জীবননাশের হুমকি প্রদান করে বাদশামিয়া বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। একইসঙ্গে মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। মন্দিরে পূজা বন্ধ না করলে বাড়ির সকল পুরুষ লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা এবং হামলার হুমকি প্রদান করে। জীবনের ভয়ে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরুষ লোকজন এখন ভিটেবাড়ি ছাড়া।

সংবাদ সম্মেলনে অনিতা সমদ্দার বলেন, মন্দির এবং ভক্ত-পূজারিদের জীবন রক্ষার্থে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘরামিকে তিনি বিষয়টি অবহিত করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে উল্টো হুমকি প্রদান করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলমকেও বাদশা মিয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা অবহিত করেন গ্রামের লোকজন। কিন্তু বেপরোয়া বাদশা মিয়া কারো কথা না শুনে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত হুমকি প্রদান করে চলছে।

সব শেষ অনিতা সমাদ্দার বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মন্দির সুরক্ষা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষার জন্য আবেদন জানান। বরিশাল পুলিশ সুপার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবী করে তিনি আরো বলেন, ফকরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া এবং তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে আমরা যাতে কোন ধরনের ভয় ভীতি ও আতঙ্ক ছাড়া বেঁচে থাকতে পারি, আমাদের পবিত্র প্রার্থনালয় শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দিরটিকে সুরক্ষা করতে পারি সেই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা করবেন।

বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘরামি সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মন্দির ও বাড়ির জমি দাবী করে আদালতে বাড়ির মালিক পলাশের বিরুদ্ধে বাদশার স্ত্রী মামলা দায়ের করে। মামলার রায় পলাশের পক্ষে থাকলেও বাদশার হুমকি-দামকীতে পলাশের পরিবার ও মন্দির কমিটির লোকজন ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বাদশা কে ফোন দিলে সে আমাকেও গালি-গালাজ করে বলেও জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এই বিষয়ে ফকরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ফখরুদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীকে সংগঠিত করতে পৃষ্ঠপোষকতা যুগিয়ে আসছেন। নিয়মিত মাসিক বেতন দিয়ে ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন, যারা সবাই বিএনপি ও জামাতের কর্মী।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *