Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে করা ‘হত্যা মামলা’ তুলতে গিয়ে ফাঁসলেন বাবা

মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে করা ‘হত্যা মামলা’ তুলতে গিয়ে ফাঁসলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক // জলিল দুয়ারি তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগ তুলে জামাতা মো. কাওসার গাজীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এ ঘটনায় এখন মামলা থেকে জামাতার অব্যাহতি চান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে হলফনামা দেন জলিল। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মামলাটি তিনি প্রভাবিত হয়ে করেছিলেন।

 

কিন্তু হলফনামা দিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন জলিল দুয়ারি। মিথ্যা মামলা করায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলা দায়ের করতে পটুয়াখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

কাওসারের জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার আদেশ দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর টাউন বহাল গাছিয়া গ্রামের বড় গাজী বাড়িতে কাওসার গাজীর স্ত্রী সাথী আক্তারকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি অপমৃত্যুর মামলা হয়। এ মামলায় নিহত সাথীর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে বলা হয়, তার বাবা ও দাদা তার মায়ের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার মাকে হত্যা করেন। পরে তার বাবা ছাগল বাঁধার রশি দিয়ে তার মায়ের গলায় ফাঁস দেন। মেডিকেলের প্রতিবেদনে সাথীর মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধের কথা রয়েছে। এরপর ওই বছরের ১২ মার্চ সাথীর বাবা জলিল দুয়ারি পটুয়াখালী থানায় কাওসার গাজীসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেন। ওই মামলায় গত বছরের ১৪ মার্চ গ্রেপ্তার হন কাওসার এই মামলায় গত বছরের ৩১ আগস্ট কাওসারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পটুয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন কাওসার। আদালতে কাওসারের পক্ষে আইনজীবী মো. আসাদ মিয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ শুনানিতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাথীর আত্মহত্যার পর কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হন জলিল দুয়ারি। পরে মেয়ের হত্যায় মামলাটি করেন বলে আদালতে হলফনামা দেন তিনি। কাওসারকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে তার আপত্তি নেই বলেও এতে উল্লেখ করেছেন জলিল দুযারি।

বশির উল্লাহ আরও জানান, কাওসারের জামিন আবেদনের শুনানিতে এই হলফনামা দাখিল করা হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ায় হত্যা মামলার বাদী সাথীর বাবা জলিল দুয়ারির বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কাওসারকে অর্ন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *