Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সাবিনাকে

রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সাবিনাকে

বাংলাদেশ ক্রাইম // বরিশালে এক নারীকে হত্যার পর ব্যারেলে ভরে লাশ গুম চেষ্টার ঘটনার মূল হোতা আব্দুল খালেক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার হিজলতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খালেক গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এবং বরিশাল নগরীর কাশিপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের কেয়ারটেকার।

নিহত সাবিনা ওই উপজেলার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দিয়াসুর এলাকার কাতার প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তিন সন্তানের জননী সাবিনা পার্শ্ববর্তী মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাহেব আলীর মেয়ে। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কাতার প্রবাসী স্বামীর সহায়তায় বিদেশে লোক পাঠাতেন সাবিনা।

শুক্রবার বেলা ১২টায় নগরীর রূপাতলীতে পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২০ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে গৌরনদীর ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে একটি বাসের ছাদ থেকে ব্যারেলের মধ্য বোরকা পরিহিত অজ্ঞত পরিচয়ের নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও হত্যাকারীর পরিচয় উদঘাটন কিংবা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি খালেক স্বীকার করেছে বিদেশ নেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়েছিলো সাবিনা। পরে বিদেশ না পাঠানোয় টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২০ নভেম্বর সাবিনাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাশিপুরে ডেকে আনেন।

‘টাকা ফেরত দেয়া নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। এ ঘটনায় গৌরনদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খালেককে গৌরনদী থানায় সোপর্দ করা হবে।’

ছাবিনার দেবর মনির হাওলাদার জানান, কাতার যাওয়ার জন্য খালেক হাওলাদার তার ভাবির (সাবিনা) কাছে ৪ লাখ টাকা দেয়। বিদেশ পাঠাতে বিলম্ব হওয়ায় এক পর্যায়ে খালেক টাকা ফেরত চায়। সাবিনা তাকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি আড়াই লাখ টাকা পায় খালেক। পাওনা টাকার জন্য বিভিন্ন সময় তাগাদা দিত খালেক। বিদেশ যেতে না পেরে খালেক নগরীর কাশীপুর আনসার ব্যাটালিয়ন অফিস সংলগ্ন ভূঁইয়াবাড়ি মসজিদের পাশে মাহিলাড়ার বাসিন্দা ব্যাংকার সচীন রায়ের নির্মাণাধীন ভবনে ম্যানেজার হিসেবে কাজ নেয়।

প্রসঙ্গত, ২০ নভেম্বর বাসটি গৌরনদীর ভূরঘাটায় যাওয়ার পর কেউ ব্যারেল নিতে না যাওয়ায় বাসের শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ব্যারেল খুলে মরদেহ দেখে বাসের হেলপার। এরপর পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সাবিনার মুঠোফোন ট্র্যাকিং করে পুলিশ তার পরিচয় জানতে পারে। এরপর সাবিনার দেবর মনির এসে তার ভাবির মরদেহ শনাক্ত করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *