Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
প্রতিশোধ নিতেই শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর হত্যা

প্রতিশোধ নিতেই শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক // বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রতিশোধ নিতে তাবাচ্ছুম (৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি। আজ শনিবার দুপুরের দিকে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ধুনটে তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে আসা তাবাচ্ছুমকে বাদাম কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পার্শ্ববর্তী হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল কলেজ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তাবাচ্ছুমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং তার হাত-পায়ের আঙুল প্লায়ার্স দিয়ে কেটে বিবস্ত্র লাশ বাঁশঝাড়ের ভেতর ফেলে রেখে যায়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের নসরতপুর গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছেলে বাপ্পি আহম্মেদ (২২), দলিল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে কামাল পাশা (৩৪), সানোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম রেজা (২২) ও সাহেব আলীর ছেলে লাবলু সেখ (২১)।

নিহত মাহি উম্মে তাবাচ্ছুম নসরতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন খোকনের মেয়ে এবং পাঁচথুপি-নসরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ৫ বছর আগে বাপ্পি আহম্মেদের আপন বোন ও  চাচাতো বোনকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা বেলাল হোসেন খোকন। ওই সময় এসব ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু তখন থেকেই প্রতিশোধের নেশা চেপে বসে বাপ্পির মাথায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠান এলাকায় তাবাচ্ছুমকে বাদাম কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পার্শ্ববর্তী হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল কলেজ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তাবাচ্ছুমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার হাত-পায়ের আঙুল কেটে বিবস্ত্র লাশ বাঁশঝাড়ের ভেতর ফেলে দেয় ঘাতক চক্র।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নসরতপুর গ্রামে জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থানে দুইদিন ব্যাপী তাফসীরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কবরস্থান কমিটির লোকজন। প্রথম দিন ১৪ ডিসেম্বর রাতে তাবাচ্ছুম দাদা-দাদির সঙ্গে তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠানে যায়। সেখানে দাদা-দাদির সঙ্গে মঞ্চের সামনে বসে তাফসীর মাহফিল শুনতে থাকে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে শিশুটি তার দাদার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে চিপস কেনার জন্য মঞ্চের সামিয়ানার বাইরে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ১টার দিকে তাফসীর মাহফিলের স্থান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি বাঁশঝাড়ের ভেতর বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্কুলছাত্রীর মৃতদেহের পাশেই পড়ে ছিল তার পরনের কাপড়। এ ঘটনায় পরদিন ১৫ ডিসেম্বর নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা বেলাল হোসেন খোকন ধুনট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ওই মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ ছিল না।

এ অবস্থায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে নসরতপুর গ্রাম থেকে বাপ্পি আহম্মেদ, কামাল পাশা, শামীম রেজা ও লাবলুকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাবাচ্ছুমকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আসামিদের বগুড়া আদালতে পাঠিয়ে আটদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *