Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
কর্মবিরতিতে চিকিৎসকরা, রোগীদের অন্তহীন ভোগান্তি

কর্মবিরতিতে চিকিৎসকরা, রোগীদের অন্তহীন ভোগান্তি

বাংলাদেশ ক্রাইম // চিকিৎসার অবহেলায় এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগে রোগীর স্বজনদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা-ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে টানা তৃতীয় দিনেও কর্মবিরতি অব্যহত রেখেছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালসহ ৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা।

 

এছাড়াও বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালগুলোতেও কর্মবিরতি চলছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। একদিকে করোনা অন্যদিকে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব, এমন সময় চিকিৎসকদের এ ধরণের কর্মবিরতি দুর্ভোগ বাড়িয়েছে রোগীদের।

এদিকে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু এবং রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শহরের বকুলতলা চত্বরে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রোগীর স্বজনসহ এলাকাবাসী।

জামালপুরের হাসপাতালগুলোতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করায় বিপাকে পড়েছেন তারা। শীতজনিত নানা রোগ নিয়ে জামালপুর জেলার ৭ উপজেলাসহ পার্শবর্তী শেরপুর জেলার বহু মানুষ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। কর্মবিরতির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

গর্ভবতী সুইটি বেগম চিকিৎসা পায়নি

রোববার থেকে শুরু হওয়া চিকিৎসকদের কর্মবিরতি মঙ্গলবারও অব্যহত রয়েছে। টানা তিনদিন কাজ বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে হাসপাতালগুলোতে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বহিঃবিভাগে কোনো চিকিৎসক আসেনি। সেবা না পেয়ে অনেক মুমূর্ষু রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে স্বজনরা। এতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে হাসপাতালটিতে।

তবে হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। চিকিৎসক নেতারা ৪ দফা দাবি আদায়ে আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের আলটিমেটাম দিয়েছেন।

শহরের গেটপাড় এলাকার ২৫ বছর বয়সি গর্ভবতী সুইটি বেগম। হাসপাতালে এসেছিলেন পেটের ব্যথা নিয়ে। তিনি বলেন, পেটে অসহ্য ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। ক্লিনিকগুলোতেও ডাক্তার বসছে না। এখন কই চিকিৎসা নিমু?

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, রোগীকে জিম্মি করেতো চিকিৎসকরা এভাবে কর্মবিরতি করতে পারে না। এটা শুধু বেআইনিই নয়, অমানবিক।

দ্রুত চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

বিক্ষোভ সমাবেশ

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় কর্মবিরতি চলছে। এ নিয়ে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

চিকিৎসকদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান ডা. মাহফুজুর রহমান।

অপরদিকে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু এবং রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর বিজু আহমেদ, অ্যাডভোকেট বাবর আলী খান, বিষ্ণ চন্দ্র মন্ডল ও পারুল বেগমসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, ডাক্তারদের অবহেলায় আমাদের রোগী করিমন নেছার মৃত্যুর পর ইন্টার্ন ডাক্তাররা নগ্ন হামলা করেছে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীর ওপর। আবার হামলার অভিযোগ করে রোগীর স্বজনদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরও করেছে। অবিলম্বে দোষী ডাক্তারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাইদুর ও শহিদুরের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির আলটিমেটাম দিয়েছেন বক্তারা।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *