Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
খাল কেটে সড়কের বিপক্ষে বিএডিসি

খাল কেটে সড়কের বিপক্ষে বিএডিসি

বাংলাদেশ ক্রাইম // আশুগঞ্জ-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া ট্রানজিট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। নৌ প্রটোকল অনুযায়ী, এ রাস্তা ব্যবহার করে কলকাতা থেকে নদীপথে আসা পণ্য আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে যাবে। মহাসড়ক নির্মাণকাজের প্রক্রিয়ার বিপক্ষে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।

সড়ক চওড়া করতে গিয়ে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল ভরাট চলছে। বিএডিসি ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে চিঠি দিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। এতে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমেই সেচ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে এ নিয়ে বৈঠক করার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে যায়।

তবে সওজের এই মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেন পাটোয়ারী চিঠিতে জানিয়েছেন, সেচের পানি প্রবহমান রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষিকাজ ব্যাহত না করে সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্পের

কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নকালে সমস্যা থাকলে তারও সমাধান হবে।

তথ্যমতে, এ প্রকল্পের প্রথম প্যাকেজে নদীবন্দর থেকে সরাইল মোড় পর্যন্ত ১২ দশমিক ২১ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়ক প্রকল্পে ভারত ঋণ দিচ্ছে ২ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৩১২ কোটি জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ। তিনটি প্যাকেজে এ মহাসড়কের কাজ চলছে।

বিএডিসির দাবি, মেঘনা নদী থেকে তোলা পানি আশুগঞ্জ তাপভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পর সেচখাল হয়ে আশুগঞ্জ, সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং নবীনগর উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষিকাজে ব্যবহƒত হয়। ৪০ বছর ধরে সাশ্রয়ী এ সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় বিকল্প সেচব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সেচখাল বন্ধ হলে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে। এ নিয়ে বিএডিসি লিখিতভাবে বলেছে, ‘সেচ কার্যক্রম পরিচালনার সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সওজ এবং পিডিবি আন্তরিক নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়।’

বিএডিসির চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম কৃষি সচিবকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে ‘বরোপিট ক্যানেল’-এর বিভিন্ন স্থান বালি দিয়ে ভরাট করে চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণকাজ চলছে। বিষয়টির সমাধান না হলে চলতি শুষ্ক মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেচ পরিচালনা সম্ভব হবে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কৃষকবান্ধব এই সেচ প্রকল্প হুমকির সম্মুখীন হবে।

সূত্র জানায়, চার মিটার প্রশস্ত ও দুই মিটার গভীর খাল রাখার প্রস্তাব করেছে সওজ। তবে বিএডিসি বলছে, এখনই পানি রেশনিং করতে হচ্ছে। খাল থেকে তিন এলাকায় সপ্তাহে ২+২+৩ দিন নীতিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। সেচ এলাকায় বোরো ধানের রোপণ ও মাড়াই মৌসুম একই সঙ্গে হওয়ায় সাত দিনই পানি সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু পানির উৎসও সংকোচিত হয়েছে মহাসড়ক প্রকল্পের কারণে। আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলাধার থেকে পানি আসে সেচখালে। জলাধারটির একটি অংশ মহাসড়ক সম্প্রসারণে চলে যাচ্ছে। জলাধারে ইতোমধ্যে বালি ভরাট শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগও (পিডিবি) নতুন ভবন নির্মাণে জলাধার ভরাট করছে। এ কারণে সেচের পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভরাট অপসারণ করতে জলাধার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ জানিয়েও সাড়া পায়নি বিএডিসি। বরং পানির গতি বাড়াতে কমিটি সুপারিশ করেছে জলাধারের উচ্চতা বাড়াতে। সওজ বলছে, খাল নিয়মিত পরিষ্কার ও নাব্য ধরে রাখলে চার মিটার প্রশস্তেই প্রয়োজনীয় সেচের পানি পাওয়া যাবে।

এদিকে এ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, সড়ক নির্মাণের পর যে অংশে খাল সচল রাখা সম্ভব এবং যেখানে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে- তা নিরূপণ করতে পারে সওজ। টো-ওয়াল ও রিটেনিংয়ের মাধ্যমে খালের জন্য জায়গা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। খালের গভীরতা বৃদ্ধি এবং জলাধারের উচ্চতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *