Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
আবারও বুড়িতিস্তা দখলের চেষ্টা

আবারও বুড়িতিস্তা দখলের চেষ্টা

বাংলাদেশ ক্রাইম // স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধী  সমাজের দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে মরা বুড়িতিস্তা। কিন্তু নতুন করে ধীরে ধীরে নানা কৌশলে বুড়িতিস্তাকে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন একটি চক্র। যে যেভাবে পারছে বুড়িতিস্তাকে ব্যবহার করছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে বুড়িতিস্তা তার নাব্যতা হারিয়ে আবারো দখলদারদের কবলে চলে যাবে।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ারে নির্মিত স্লুইস গেটটি তিস্তা নদীর গর্ভে চলে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে বুড়িতিস্তার উৎস মুখে বাঁধ নির্মাণ করেন। ফলে বুড়িতিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে, দখল আর দূষণে প্রমত্তা বুড়িতিস্তা মরা খালে পরিণত হয়। গত ৪ বছর আগে বুড়ি তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন শুরু করে ছিলেন উলিপুর প্রেস ক্লাব এবং রেল, নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটি। তারা নদী খনন করে এর পানির প্রবাহ সৃষ্টি করা ও নদী দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছিল।

দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর বুড়ি তিস্তা প্রধানমন্ত্রীর ডেলটা প্ল্যান কর্মসূচির আওতায় ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৮০ ফুট প্রস্থ ও ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ব্যাপী খনন কাজ করে।তিস্তা নদীর একটি শাখা বুড়ি তিস্তা। এটি  উপজেলার থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে  চিলমারী উপজেলার কাচকল এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে।যাউ গত বছরেই শেষ হয়। প্রাণ ফিরে পায় মরা বুড়িতিস্তা। কিন্ত সেই বুড়িতিস্তা নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আবারো দখলের পায়তারা করছেন একটি মহল।

সরিজমিনে, পৌরশহরের নারিকেলবাড়ি কাজির চক, খামার, চরপাড়া এলাকার বুড়িতিস্তা পাড় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় নদীর পাড়ের অংশ কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। আবার কেউ পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে গেছে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁশ আর জালের ঘের দিয়ে মাছ চাষ করতেও দেখা গেছে। এভাবেই বুড়িতিস্তাকে যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বুড়িতিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বুড়িতিস্তা নদীর গুনাইগাছ ব্রিজ পয়েন্টে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নারিকেলবাড়ি কাজির চক এলাকার ফজল উদ্দিনকে (৬৫) বুড়িতিস্তা নদীর পাড় কাটতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু না জানিয়ে দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যান।  ওই এলাকার বাসিন্দা মহসিন আলী(৪০) বুড়িতিস্তা নদীতে ঘের দিয়ে মাছ চাষ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, পুকুর শুকিয়ে গেছে তাই নদীতে মাছ চাষ করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে নদীর পাড় কাটলে বর্ষা মৌসুমে অনায়াসে লোকালয়ে পানি ঢুকে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। যে যার মত বুড়িতিস্তা নদীকে ব্যবহার করে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় নদী তার ফিরে পাওয়া ঐতিহ্য দ্রুত হারিয়ে ফেলবে।

রেল, নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটির উলিপুর শাখার সভাপতি আপন আলমগীর বলেন, বুড়িতিস্তা নদীর পৌরসভার অংশটুকু অধিগ্রহণ না থাকায় একটি চক্র আবারো নদী দখলে হীন অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বুড়িতিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কতৃপক্ষের সুুুুদৃষ্টি কামনা করছি।

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির কুড়িগ্রাম সভাপতি ও উলিপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরদার বলেন, এভাবে আবারো বুড়িতিস্তা দখল হতে থাকলে, সরকারের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, বুড়িতিস্তা নদীর পৌর এলাকায় অধিগ্রহণে আইনি জটিলতা থাকায় তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *