Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
১০ বছরেও বিচার হয়নি ফেলানী হত্যার

১০ বছরেও বিচার হয়নি ফেলানী হত্যার

বাংলাদেশ ক্রাইম // ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ১৪ বছরের কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

আজ ফেলানী হত্যার ১০ বছর। পরিবারটি আজও কাঙ্ক্ষিত বিচার পায়নি। বিচারের আশায় এখনো দিন গুনছেন তারা। বিচার কার্য অমীমাংসিত থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা ও মা।

বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে পালন করা হচ্ছে তার দশম মৃত্যুবার্ষিকী। আয়োজন করা হয়েছে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের।

ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে ফেলানী হত্যার বিচার চেয়ে অনেক ঘুরেছি, মানবাধিকার সংস্থাসহ বহুজনের কাছে গিয়েছি। কোনো ফল পাইনি। মেয়ে আমার চলে যাওয়ার প্রায় ১০ বছর হতে যাচ্ছে। আজও তার বিচার পেলাম না। বার বার বিচারের তারিখ বদলায়। তাহলে বিচার পাবো কীভাবে।’

২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনার র্বে শুনানির তারিখ থাকলেও তা হয়নি। এখন আর কোনো খোঁজ খবর জানি না, বলেন তিনি।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার এত বছর হয়ে গেছে আজও বিচার পেলাম না। আমি দুই দেশের সরকারের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে ৯৪৭ নম্বর আন্তর্জাতিক ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশ দিয়ে মই বেয়ে কাঁটাতার ডিঙিয়ে বাবার সঙ্গে দেশে ফিরছিল ফেলানী।

এসময় টহলরত চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার বাড়ী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহার জেলার বিএসএফের ১৮১ সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়।

৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে। রায় প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে সেদেশের সরকারকে ন্যায়বিচারের আশায় চিঠি দেন।

২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যার ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম প্রথম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপ্রদান অ্যাডভোকেট সালমা আলী দ্বিতীয় বাদী হয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করেন।

ভারতের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় ভারতের আইন ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিএসএফের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়। ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফেলানীর বাবার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ চেয়ে আরো একটি আবেদন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *