Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
খাল-বিলে মাছ ধরার উৎসব

খাল-বিলে মাছ ধরার উৎসব

বাংলাদেশ ক্রাইম // বর্ষা শেষে বিলের পানি কমে যাওয়ায় নড়াইলের বিভিন্ন খাল-বিলে চলছে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরার উৎসব। কেউ পলো দিয়ে, আবার কেউ জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে এসব মাছ ধরছে।

 

শোল, টাকি, কৈ, মাগুর, রুই-কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতে পেরে খুশি এসব মাছ শিকারীরা। তবে আগের তুলনায় মাছ কমে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

দেশীয় প্রজাতির মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নড়াইল জেলা। এই জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি, চিত্রা, নবগঙ্গা, কাজলা নদীসহ অসংখ্য খাল-বিল রয়েছে। এসব নদী, খাল-বিলে মিঠা পানি প্রবাহিত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ভালো হয়। যার কারণে ইছামতি বিল, চাচুড়ির বিল, কাড়ার বিল, নলামারা বিল সহ অসংখ্য বিলে দেশীয় প্রজাতির শোল, টাকি, মাগুর, সিং, কৈ সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।

বর্ষা শেষে এসব বিলে শুরু হয় মাছ ধরার উৎসব। মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সৌখিন ও পেশাদারী মাছ শিকারীরা নেমে পড়েন মাছ ধরতে, যা অনেকটাই উৎসবে পরিণত হয়।

বর্ষা শেষে বিলে মাছ ধরার কৌশল

নড়াইল পৌরসভার বিজয়পুর এলাকার সৌখিন মাছ শিকারী আনিচুর রহমান বলেন, একসময় অনেক মাছ পাওয়া গেলেও এখন একেবারেই কমে গেছে। বিভিন্ন বিলের নিচু এলাকায় ঘের তৈরি হওয়ায় মাছের আশ্রয়স্থল নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া আগের মতো পানি না হওয়ায় মাছ কম পাওয়া যায়। তাছাড়াও ধানে বিষ প্রয়োগ, মা মাছ নিধনসহ বিভিন্ন কারণে মাছের প্রজনন কমে গিয়েছে। দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ রক্ষায় বিভিন্ন বিলে অভয়াশ্রম তৈরি করা প্রয়োজন।

সদরের সীমাখালী গ্রামের রুবেল সরদার বলেন, বর্ষা শেষে বিলে হাঁটু পানি থাকায় পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে আমরা মেতে উঠি। আমাদের এলাকার কাড়ার বিলে প্রায় একশ’ পোলো নিয়ে আমরা মাছ ধরেছি। শোল, টাকি, রুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেছি।

দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

লোহাগড়া উপজেলার হান্দলা গ্রামের দাউদ হোসেন বলেন, লোহাগড়া উপজেলার সর্ববৃহত বিল ইছামতি। এই বিলে পানি কমে যাওয়ায় মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দেশীয় প্রজাতির কই, মাগুর, বাইনসহ অনেক ধরণের মাছ ধরেছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম বলেন, নড়াইলের নদীগুলোর পানি মিষ্টি, তাই এই এলাকায় দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। সরপুঁটি, পুঁটি, টেংরা, পাবদা, কই, মাগুর, শোল, টাকি, কাকলেসহ সব প্রজাতির মাছ এখনো নড়াইলের নদী, খাল ও বিলে পাওয়া যায়। তবে নদীতে পাট জাগ দেয়া, বিষ প্রয়োজ, পানি কম হওয়াসহ নানা কারণে মাছের পরিমাণ কমে গেছে।

তিনি বলেম, মাছের প্রজনন বৃদ্ধিসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় বিভিন্ন বিলে অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *