Logo
Notice :
Welcome To Our Website...

এ এক অন্যরকম রাত!

বাংলাদেশ ক্রাইম // বিটের তালে তালে কেঁপে ওঠছে চারপাশ। নিচতলার বিশাল রুমে আয়োজন করা হয়েছে নাচ, গানের। রুমটির চার পাশে সারিবদ্ধ সোফা, চেয়ার। মাঝখানে ড্যান্সফ্লোর। রুমের ভেতরে দো’তলার সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ডিস্ক জকি। হিন্দি-ইংরেজি গান মিলিয়ে বাজাচ্ছেন এই ডিজে তরুণী। তার পাশে দাঁড়িয়ে দুই তরুণী ও এক তরুণ। গানের তালে তালে শরীর দুলানোর চেষ্টা করছেন তারা।

তরুণের হাতে বিয়ারের ক্যান। পান করছেন আর হুররে বলে চিৎকার করছেন। বিয়ার এগিয়ে দিচ্ছেন ওয়েস্টার্ণ পোশাক পরিহিতা পাশের তরুণীকে। ওই তরুণীও চুমুক দিচ্ছেন। একে অন্যের কাঁধে হাত রাখছেন। কাছে টেনে নিচ্ছেন। বেসামাল অবস্থা ড্যান্সফ্লোরে। স্বল্পবসনা পার্টিগার্লরা নাচ করছেন। সোফা থেকে দর্শককদের কেউ কেউ ওঠে এসে যোগ দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে। পান করছেন আর নাচছেন। ১৯ বছরের তরুণ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের দেখা গেছে তরুণীদের সঙ্গে উদ্দাম নাচে অংশ নিতে। গানের তালে তালে শরীর দোলাচ্ছেন আর এক হাতে সঙ্গীকে জড়িয়ে রেখেছেন কেউ কেউ। কারও এক হাত বান্ধবীর কাঁধে বা পেটে অন্য হাতে বিয়ারের ক্যান। শীতের রাতে নাচতে নাচতে ঘেমে যাচ্ছেন অনেকে। এরমধ্যেই এক বয়স্ক ব্যক্তি ড্যান্সফ্লোরে পার্টিগার্লদের একের পর এক টাকা দিচ্ছেন। নাচতে নাচতে তার কাছে গেলেই টাকা জোটে পার্টিগার্লদের। সব তরুণীরা তখন তার দিকেই ঝুঁকছেন। তার পাশে, কোলে বসছেন কেউ কেউ। টেনে তাকে কাছে নিয়ে একসঙ্গে নাচার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে এ এক অন্য রকম রাত, অন্য রকম দৃশ্যপট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নরূপ ধারণ করে এই পার্টি।

দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বিশিষ্ট এক ব্যক্তি। তার সেবায় নিয়োজিত কয়েক কর্মচারী। রয়েছেন দুই তরুণী। দরজা বন্ধ। এক তরুণীসহ ভেতরে বিশ্রাম নিচ্ছেন তিনি। প্রায় আধাঘণ্টা পর ওই তরুণী রুম থেকে বের হন। ততক্ষণে তার ঠোঁটের লিপিস্টিক অনেকটা নেই। লেপ্টে আছে ঠোঁটের নিচে। চুলগুলো এলোমেলো। কিছুক্ষণ পর ওই রুমে যান আরেক তরুণী। দীর্ঘ বিশ্রাম শেষে শেষরাতে ওই অতিথি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়িতে করে রিসোর্ট ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে বেরিয়ে যান কয়েক জন।

দ্বিতীয় তলার রুমটি এবার অন্যদের বিশ্রামাগারে পরিণত হয়। অর্থের বিনিময়ে সঙ্গীসহ বিশ্রাম নিচ্ছেন পার্টিতে অংশগ্রহণকারীরা। এভাবে নিচে নাচ, গান। উপরে বিশ্রাম। রাতভর চলছিলো পার্টি।

ঢাকার অদূরে তুরাগ নদীর তীরে একটি রিসোর্টের পার্টির দৃশ্য এটি। পুলিশের বাধার কারণে পার্টি নিয়মিত হয় না। মাঝে-মধ্যে আয়োজন করা হয়। যখন আয়োজন করা হয় তখন অবশ্য বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি অতিথি হিসেবে থাকেন সেখানে। তাই তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না আয়োজকদের।

ভেতরে যখন পার্টি চলছে বাইরে তখন রিসোর্টের নিরাপত্তা বলয়। কয়েক নিরাপত্তাকর্মী বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্দিষ্ট টিকেট ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবারের ওই পার্টিতে প্রায় অর্ধশত তরুণী ও বিভিন্ন বয়সের শতাধিক পুরুষের উপস্থিতি ছিলো।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *