Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

বাংলাদেশ ক্রাইম // উত্তরের বাতাসে হিমেল হাওয়া বৃদ্ধির কারণে রাজশাহীতে কমেছে আরও তাপমাত্রা। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বিশেষভাবে রাস্তায় পড়ে থাকা পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষরা আছেন বেকাদায়। আবার যেসব শ্রমজীবী মানুষের সময় কাটে কাজের তাগিদে তারাও রয়েছেন বিপাকে। শীতের তীব্রতায় জনজীবন যেন স্থবির হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ শুক্রবার ভোরে রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতর থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। রাজশাহীর তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উপরে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সূর্য দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতি আরও দুই-তিন দিন চলতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহীতে থাকছে কুয়াশার চাদরে ঢাকা। ভোরে বইছে হিমেল হাওয়া। এ কারণে শীত অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি। রাজশাহীতে গত কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ার এটাও বড় কারণ।

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার কিসমুমনন্ডু কুখন্ডী গ্রামের ট্রাক ড্রাইভার জহুরুল ইসলাম (২৮)। দিনের বেশীরভাগ সময় কাটে রাস্তায় গাড়ি চালানোয়। সকালে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হতেই কাঁপুনি শুরু হয়ে গিয়েছে। এত ঘন কুয়াশায় খানিকটা দূর পর্যন্ত দেখা যায় না। মনে হচ্ছে বৃষ্টির ফোটা গায়ে এসে পড়ছে। প্রচন্ড শীত লাগছে। মোটা কাপড় পড়ে কাজ-কাম করলেও যেন শীত যায় না।’

নগরীর শিরোইল কাঁচাবারের বাসিন্দা খন্দকার শাহরিয়ার রহমান। রাজশাহী ইউনিভারসিটির (রাবি) পরিকল্পনা উন্নয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। শীতের তীব্রতার বিষয়ে তিনি বলছেন, ‘বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সকাল সকাল অফিসে বের হতে হয়, অফিস থেকে সাইট ভিজিট। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই বোঝা যায় শীতের প্রকোপ। এত ঠান্ডা লাগে যেন মনে হয় শীতের কোনো পোশাক গায়ে নেই।’

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম জানান, শহরে তাদের অফিসে তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি ওপরে রেকর্ড করা হলেও গ্রামে তাপমাত্রা এর চেয়েও কম হবে। সাধারণত এ রকমই হয়। তবে গ্রামাঞ্চলে তাদের তাপমাত্রা রেকর্ড করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরও জানান, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। রাজশাহীতে এবার সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল গত ২৯ ডিসেম্বর।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *