Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
পাওয়া গেল না বাঘের আক্রমণে নিহত ‍দুজনের মরদেহ

পাওয়া গেল না বাঘের আক্রমণে নিহত ‍দুজনের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক // সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে দুই মৎস্যজীবী নিহতের ঘটনায় এখনো পাওয়া যায়নি তাদের মরদেহ। তবে তাদের সঙ্গে থাকা অপর এক মৎস্যজীবীর সন্ধান পাওয়া গেছে। নিহতদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নিহত দুই মৎস্যজীবী হলেন-সাতক্ষীরার শ্যমানগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের কফিলউদ্দিনের ছেলে রতন (৪২) ও একই গ্রামের মনোমিস্ত্রীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪০)। জীবিত থাকা অপর মৎস্যজীবী একই গ্রামের সাত্তারের ছেলে আবু মুসা (৪১)।

শ্যামনগন উপজেলার নীলডুমুর ১৭ বিজিবির সিও ইয়াছিন চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিপরীতে ভারতীয় অংশে পাইজুরি খালে (ম্যাপে নেই) ঘটনাটি ঘটেছে। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাঘের আক্রমণে নিহত দুই মৎস্যজীবীর কোন সন্ধান মেলেনি। তবে জীবিত থাকা অপর মৎস্যজীবী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি এমন দূর্গম এলাকায় ঘটেছে সেখানে কাউকে খুঁজে বের করাও দূরহ ব্যাপার। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে অনুরোধ করছি, তারাও মানবিক হয়ে বিষয়টি দেখছেন বলে জানিয়েছেন।’

এর আগে বৃস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জীবিত ফিরে আসা মৎস্যজীবী আবু মুসা তার স্ত্রীকে ফোনে বলেন, ‘রতন ও মিজানুরকে বাঘে ধরে মেরে ফেলেছে, আমি বেঁচে আছি।’ শ্যামনগরের কৈখালী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কালিতলা এলাকায় পুল্লাদ নামের এক ভারতীয়র কাছে এই মৎস্যজীবী অবস্থান করছেন বলে মোবাইল ফোনে স্বজনদের জানিয়েছেন।

কৈখালী এলাকার জিএম আবুল কালাম শুভ জানান, ‘আবু মূসার সঙ্গে ফোনে আমার কথা হয়েছে। সে কৈখালীর বিপরীতে ভারতীয় এলাকায় প্রহ্লাদ নামের এক ভারতীয় ব্যক্তির কাছে রয়েছেন। তিনজন একটি নৌকায় ছিলেন। নৌকা থেকে দুজন নামার পরই তাদের বাঘে আক্রমণ করে। নিরুপায় হয়ে অপরজন তড়িঘড়ি করে নৌকা নিয়ে ওখান থেকে চলে আসে বলে জানিয়েছে।’

কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, এখন মরদেহটি দুটি উদ্ধার করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নিহত দুই পরিবারে চলছে আহাজারি। জীবিত থাকা মৎস্যজীবী আবু মূসাকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সে এখন ভারতে রয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়েছে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই মৎম্যজীবী। মরদেহ দুটি বিএসএফ উদ্ধার করেছে ও অপরজনকে আটক রাখা হয়েছে।

তবে এমন ঘটনাটি সত্য নয় জানিয়ে সীমান্তের নীলডুমুর ১৭ বিজিবির সিও ইয়াছিন চৌধুরী জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহত হলে বা তারা লাশ উদ্ধার করে রাখলে সেটি অবশ্যই তারা জানাতো। এটি গোপন করার মত কিছু নয়। তা ছাড়া অপর মৎস্যজীবীও বিএসএফের হাতে আটক নেই।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *