Logo
Notice :
Welcome To Our Website...
বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা পাচ্ছে মেহেন্দিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা

বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা পাচ্ছে মেহেন্দিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা

সোহরাব হোসেন সোহাগ, মেহেন্দিগঞ্জ // নদী বেষ্টিত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন ৫ ইউনিয়নে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মাঝে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় কাজীরহাট থানাধীন লতা উদয়পুর মুসলিম আখন্দ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ পঙ্কজ নাথ। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, সরকার বিনা পয়সায় করোনার ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের মাঝে দিচ্ছে। নদী বেষ্টিত হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী। এসব শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে নৌপথ পারি দিয়ে কষ্ট করে জেলা সদরে যেতে হতো। যা নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমরা চেষ্টা করেছি যাতে অভিভাবকদের চিন্তা দূর করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করতে। এজন্য বিকল্প পন্থায় মেহেন্দিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ও কাজিরহাট থানাধীন লতা ইউনিয়নে টিকা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে মেহেন্দিগঞ্জ সদরে শিক্ষার্থীদের টিকাদান করা হচ্ছে, আর আজ কাজিরহাট থানাধীন লতা ইউনিয়নের উদয়পুর মুসলিম আখন্দ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হলো। এখানে মেহেন্দিগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদেরকে টিকা দেওয়া হবে। হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মোট ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। এমপি পঙ্কজ বলেন, এলাকায় টিকাদানের এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদের আগাম অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আমাদের এখানে ভ্যাকসিন রাখার মতো রেফিজারেটর নেই, তাই জেলা সদর থেকে প্রতিদিনের ভ্যাকসিন প্রতিদিন আনতে হচ্ছে। ভ্যাকসিনের ভায়েলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইক্রোবাস, টিকা কেন্দ্রে এসি বসাতে হয়েছে। নয়তো ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কারণ নির্ধারিত তাপমাত্রার ওপরে থাকলে মাত্র ২ মিনিটে ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, এর বাহিরে আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখতে হয়েছে, সেইসঙ্গে নৌপথে ট্রলার, স্পিড বোট এবং সড়কপথে অ্যম্বুলেন্স ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় নিজ এলাকায় অর্থাৎ ঘরে বসে শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে পারছে এটাই স্বস্তির। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার দাস জানান, লতা ইউনিয়নের এই কেন্দ্রে আশপাশের ৫টি ইউনিয়নের ১৪টি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৬৩০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলায় মোট ২২ হাজার শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। তবে এর সংখ্যা বাড়লে সে প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যায় পরতে হয়নি আমাদের। টিকাগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক ও সু্স্থ রয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় বসে টিকা দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মাকসুদা নামে এক শিক্ষার্থী জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। পথে যানবাহন ও খাবারের ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, নূরুননবীসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *